গুম প্রতিরোধ অর্ডিন্যান্স বহাল রাখতে হবে:পরওয়ার

Ayesha Siddika | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ - ১১:৫৪:৪০ পিএম

ডেস্ক নিউজ : গুম প্রতিরোধের অর্ডিন্যান্স বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

তিনি বলেন, গুমের শিকার সংগ্রামী জনতা, জুলাই যোদ্ধা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের স্বার্থে গুম প্রতিরোধের অর্ডিন্যান্স বহাল রাখতে হবে। অর্ডিন্যান্স বাতিল করে গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিয়ে সরকার আবারও গুম করার ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে সংসদ ভবনের সামনে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির আয়োজনে বেলা ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরে সমাবেশের পর হাজারো মানুষ পদযাত্রা করে জাতীয় সংসদের দিকে যান। পরে সংসদ ভবনের সামনে সমাবেশ শেষে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণ ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশে আর গুম-খুনের আস্তানা চলতে পারে না। জুলাই সনদে মানবাধিকার রক্ষা ও গুম প্রতিরোধে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে সেখানে নামেমাত্র একটি কমিটি করতে চায়। এ সরকার বিগত ফ্যাসিবাদের মতো গুম-খুন করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, বর্তমান সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি বাতিল করেছে। সরকার যেসব অধ্যাদেশ আনছে, তা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের চেয়েও খারাপ।

হাসিনার আয়নাঘরে গুমের শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান এমপি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের দ্বিতীয় জীবন দিয়েছেন। এ বাংলার মাটিতে আর কারও যেন মানবাধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, আর যেন গুম ফিরে না আসে।’ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এমন আইন প্রণয়ন করা উচিত ছিল, যাতে কেউ গুম করার আগে দশবার চিন্তা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন শহীদ জাবের ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ অন্য সংসদ-সদস্যরা।

পদযাত্রার আগে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানবকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

সংসদ ভবনের সামনে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. রেজাউল করিম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, গুমের শিকার শাহাদাৎ হোসেন টুটুল, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ও মাওলানা মাহফুজুর রহমান।

স্মারকলিপি দিয়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক আশা নিয়ে স্পিকারের কাছে গিয়েছিলাম। সব পয়েন্ট জানিয়েছি। তিনি আমাদের সঙ্গে দ্বিমত করেননি। সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, যে আইনটি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে তার স্বামীকে গুম করা হয়েছিল। আমরা এ ধরনের আইন চাই না।’ ধৈর্যের সীমা আছে উল্লেখ করে আগামী ৫ তারিখের লংমার্চসহ সব কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে বেইমানি করে যে যাত্রা শুরু করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় গুম অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। এতে গুমের বিচার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশ চলাকালে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির প্রতিনিধিদল স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের কাছে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদ এবং আগের অর্ডিন্যান্স বহাল রাখার দাবিতে স্মারকলিপি দেয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্য সংহতি প্রকাশ করে।

 

 

আয়শা/৩০ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:৫৪

▎সর্বশেষ

ad