আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরে লাল সুটকেসে এক নারীর খণ্ডিত লাশের কিছু অংশ উদ্ধারের পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনের কয়েক ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখে, মানিক উদ্দিন লস্কর নামের এক ব্যক্তি ওই ভারী লাল সুটকেসটি বহন করছে এবং তার সঙ্গে ছিল স্ত্রী ভগবতী মাঝি।
পরবর্তীতে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে পুলিশ চেন্নাইয়ের উপশহরের গুডুভানচেরিতে একটি ভাড়া বাসার সন্ধান পায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি বড় রান্নার পাত্রের ভেতর থেকে খণ্ডিত দেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। ৫ আগস্ট ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস ট্রেনটি আগ্রা ক্যান্ট স্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির সাধারণ কামরায় পড়ে থাকা একটি লাল সুটকেস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান যাত্রীরা। পরে সরকারি রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা সুটকেসটি পরীক্ষা করে ভেতরে মাথাবিহীন ও খণ্ডিত এক নারীর মরদেহ দেখতে পান।
এর ২৪ দিন পর সন্দেহভাজন ঘাতক স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মনিপুরের জিরিবাম জেলা থেকে এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতে সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। শনিবার (২৯ আগস্ট) মনিপুর ও তামিলনাড়ু পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আসামের কাছাড় জেলার ২২ বছর বয়সী মানিক উদ্দিন লস্কর এবং ওড়িশার কেওনঝড় জেলার ২১ বছর বয়সী তার স্ত্রী ভাগবতী মাঝি। মনিপুর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গুডুভানচেরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ফরেনসিক বিশ্লেষণে নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৩৮ বছর বয়সী ওই নারীর নাম হায়াতুন নিশা। ওড়িশার বাসিন্দা এই নারী চেন্নাইয়ের কাছে গুডুভানচেরিতে বাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্রথমে গুডুভানচেরি থানায় ঘটনাটি নিখোঁজ ডায়েরি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে দেহাবশেষ উদ্ধারের পর পুলিশ এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে পরিবর্তন করে। প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দম্পতিকে চিহ্নিত করে সারা দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কারণ মরদেহ ফেলে দেওয়ার পরপরই ওই দম্পতি আত্মগোপনে চলে যায়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) মনিপুরের জিরিবাম জেলার কাশিমপুরে অভিযুক্তদের অবস্থান চিহ্নিত করে যৌথ পুলিশ দল এবং সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আসামি দুজনকে মনিপুরের স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর ট্রানজিট ওয়ারেন্টে তামিলনাড়ুতে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আয়শা/৩০ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১০:৫৪
