রিমির নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ - ০৭:০৩:১০ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের ফাইনালে নেত্রকোণাকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্বাগতিক ময়মনসিংহ জেলা দল। ফাইনালে এই দাপুটে জয়ের সুবাদে তারা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। 

ময়মনসিংহের এই আকাশচুম্বী জয়ের নেপথ্য নায়ক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উদীয়মান ফুটবলার মোসা. রিমি। ফাইনাল ম্যাচে একাই ৪ গোল করে ম্যাচ সেরার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নেন এই খুদে তারকা। ফাইনাল ম্যাচে নেত্রকোণার রক্ষণভাগকে যেন খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন রিমি। ম্যাচের শুরু থেকেই তার ক্ষিপ্র গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা। পুরো ম্যাচে একাই ৪টি দর্শনীয় গোল করে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন তিনি। 

রিমির এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে মুখরিত করে তোলেন পুরো চারপাশ। রিমির এই গোলবন্যা কেবল ফাইনালেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেমিফাইনাল থেকেই তিনি ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। এর আগে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে শেরপুর জেলার বিপক্ষেও ময়মনসিংহের জয়ে মূল ভূমিকা ছিল তার। সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচেও প্রতিপক্ষের জালে ২ বার বল পাঠিয়ে দলের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন ঈশ্বরগঞ্জের এই ফুটবল কন্যা।

টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচেই তার পা থেকে এসেছে ৬টি চোখ ধাঁধানো গোল। মাঠের চারপাশে বল ড্রিবলিং ও গোলপোস্টের সামনে তার ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে ফুটবল বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই তার মাঝে দেশের নারী ফুটবলের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন। ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা অবশ্য বেশ সংগ্রামের। বাবা-মা দুজনেই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।

বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নানার আশ্রয়ে থেকেই নিজের ফুটবল খেলার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নানাভাইয়ের হাত ধরে ও নিজের অদম্য ইচ্ছায় আজ ঈশ্বরগঞ্জ ছাড়িয়ে পুরো ময়মনসিংহের গর্বে পরিণত হয়েছেন রিমি।

 

 

আয়শা/ ১৮ মে ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৪

▎সর্বশেষ

ad