ডেস্কনিউজঃ বল নেপালের গোললাইন পেরিয়ে যেতেই উদযাপন শুরু করলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। উদযাপনে তার সঙ্গী হতে ছুটে এলেন বাকি সতীর্থরা।
গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে আজ একজনই ছিলেন। তার গর্জন ও উচ্ছ্বাসটা যেন মুহূর্তেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ল।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজাতে তখন মিনিট কয়েক বাকি। সেই সময় সাগরিকা যখন গোল করলেন, তখন সবাই ধরেই নিয়েছেন বাংলাদেশের শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো। পিছিয়ে পড়েও নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ।
রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভুটানের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারত। এই ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী শুক্রবার (৫ জুন) হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নামবে বাংলাদেশ।
গ্যালারিতে বাংলাদেশের পতাকা হাতে এক সমর্থক। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে
ম্যাচ তখন ১-১ সমতায়। যোগ করা সময়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বল বাড়ান গোলমুখে। নিখুঁত টোকায় বাকি কাজ সারেন সাগরিকা। বাংলাদেশের আরেক গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
সাফের গত দুই ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালের স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি হয়ে গোয়ার সেমিফাইনালে।
আজ তিন পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। ভারত ম্যাচে খেলা মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুরমা জান্নাতের বদলে খেলান আফঈদা খন্দকার, উমেহ্লা মারমা ও সুরভী আকন্দ প্রীতিকে। আগের দিন মা হারানো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমকেও রাখেন বেঞ্চে।
শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। মারিয়ার পাসগুলো হচ্ছিল না নিখুঁত। রক্ষণও ছিল না জমাট। নেপাল তাই আধিপত্য দেখাতে থাকে। ২২ মিনিটে এগিয়েও যায় তারা।
কর্নারের পর মিলি আক্তার দুর্বল ফিস্টে ক্লিয়ার করতে পারেননি পুরোপুরি। বক্সে জটলার ভেতরে বল পেয়ে গীতা রানি চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
ম্যাচে ফিরতে বাটলার দুটি পরিবর্তন আনেন ৩৮ মিনিটে। উমেহ্লা ও প্রীতিকে তুলে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে নামান কোচ। এরপর বাংলাদেশের খেলায় গতি ফেরে।
মা হারানো শিউলি আজিমকে সান্ত্বনা দেন সতীর্থরা। ছবি: মীর ফরিদ, গোয়া থেকে
৪৫ মিনিটে দৃষ্টিনন্দন অলিম্পিক গোলে (কর্নার কিক থেকে গোল) দলে স্বস্তি ফেরান সর্বশেষ ফাইনালে জয়সূচক গোল করা ঋতুপর্ণা। ডান দিক থেকে এই ফরোয়ার্ডের কর্নার কিকে বল নেপাল গোলকিপার আঞ্জিলা সুব্বাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি দূরের পোস্ট লেগে জালে জড়ায়।
ম্যাচের শেষ ভাগে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে তুলে সাগরিকাকে নামান কোচ বাটলার। সেই সাগরিকার গোলই বাংলাদেশকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়।
বিপুল/০৩.০৬.২০২৬/রাত ৮.০৯
