৩০ বছর ধরে মামলা, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে মালিককে জায়গা বুঝিয়ে দিলো আদালত

Ayesha Siddika | আপডেট: ১২ জুন ২০২৪ - ০৫:২৪:১৭ পিএম
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রকৃত মালিককে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩০ বছর ধরে ওই জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছিলো। আদালতের নির্দেশে বুধবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যক্তিগত টাকায় ক্রয় সূত্রে জায়গার প্রকৃত মালিক পৌর এলাকার রাধানগরের অনিল কুমার বিশ্বাস। তবে পৈতৃক সূত্রে মালিক দাবি করে তার এক ভাই জায়গার মালিকানা দাবি করেন।
তবে তিনি মামলায় হেরে যান। প্রফুল্ল বিশ্বাসের পরিবার ধর্মান্তরিত হলে তাদের হয়ে শাহাদাৎ হোসেন জায়গার মালিকানা দাবি করে আদালতের মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন পর আদালত মামলায় রায় দেন। রায় পেয়ে প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের ছেলে আশিষ ও অশিষ জায়গা বুঝে পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে আদালত তাদেরকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়। এর আগে আদালতের নোটিশ পেয়ে জায়গা থেকে সরে যান দখলে তারা পরিবার।  

এদিকে বেলা ১২টার দিকে পুলিশসহ আদালতের সংশ্লিষ্ট একটি দল পৌর এলাকার রাধানগরে আসেন। পরে আসেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম। দুপুরে তারা রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি জায়গা আশিষ কুমার বিশ্বাস ও অশিষ কুমার বিশ্বাস নামে দুই ভাইকে বুঝিয়ে দেন। এ সময় ওই জায়গার চারপাশে লাল নিশান টানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢোল পিটিয়ে জায়গার প্রকৃত মালিকের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ওই জায়গায় থাকা ঘরের কিছু অংশ সরিয়ে ফেলেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ, ব্যবসায়ি মো. শাহ আলম, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বাবু, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক জুটন বনিক সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জায়গার দখলে তারা পরিবারের একাধিক সদস্যও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সোয়া তিন শতাংশ ওই জায়গার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

জেলা জজ আদালতের নাজির মো. আওলাদ হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি নিয়ে মামলা চলছিলো। অনিল বিশ্বাসের ছেলেরা রায় পেয়েছেন। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশে তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ি জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশীষ বিশ্বাস জানান, আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের নির্দেশে যথাযথ নিয়ম মেনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাদেরকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হলেও জায়গা বুঝে পেয়ে তারা বেশ খুশি।

কিউটিভি/আয়শা/১২ জুন ২০২৪,/বিকাল ৫:১৮
▎সর্বশেষ

ad