ব্রেকিং নিউজ
দর্শনই মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করে হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়তে মরিয়া আলোচিত এসপি হুমায়ুন ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা চালকের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল

Ayesha Siddika | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ - ১১:২৯:৩৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালুর বিরোধিতা ঘিরে ভারতে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। 

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে গিয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেবেন। এ উপলক্ষে রাজধানী দিল্লিতে একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১ আগস্ট) আয়োজিত জাতীয় গণশুনানিতে কেজরিওয়াল বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। 
তিনি বলেন, আগামী ৪ আগস্ট দুপুরে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে আবেদনপত্র পৌঁছে দেবেন। তার সঙ্গে এমন একশ জন থাকবেন, যারা গ্রেফতার বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে প্রস্তুত। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, সরকার যদি নিশ্চিত থাকে যে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তাহলে জনসম্মুখে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে খোলামেলা আলোচনা আয়োজন করতে পারে। সেখানে সরকার ও বিরোধী পক্ষ নিজেদের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে পারবে। কিন্তু সরকার সেই পথে না গিয়ে সমালোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়েছে বা বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এমন অন্তত ১০০টি ঘটনার প্রমাণ কেজরিওয়ালকে দেখাতে হবে। শুধু অভিযোগ করলেই হবে না। ভারতে ধাপে ধাপে পেট্রোলে ইথানলের পরিমাণ বাড়ানোর সরকারি নীতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে অনেক গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, এ নীতি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক।
কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, এ নীতির পেছনে শুধু পরিবেশগত যুক্তিই নয়, অন্য স্বার্থও কাজ করছে। তার দাবি, ইথানল ব্যবসার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়করির দুই ছেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণেও সরকার এ নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেজরিওয়াল তিনটি দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রথমত, দেশের প্রতিটি পেট্রোলপাম্পে সাধারণ পেট্রোল ও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি—উভয় ধরনের জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো জ্বালানি নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পেট্রোলের দাম কমাতে হবে। তৃতীয়ত, ইথানলের মূল্যও কমাতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল ইস্যু এখন শুধু জ্বালানি নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পুলিশি বাধা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪ আগস্টের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার ও বিরোধী শিবিরের পালটা-পালটি অবস্থানের মধ্যে এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

 

 

আয়শা/০২ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:২৫

▎সর্বশেষ

ad