আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করার মার্কিন ও ইসরাইলি প্রচেষ্টাকে একটি কৌশলগত ফাঁদ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর গাজায় চাপ আরও তীব্র হয়েছে এবং এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য মূলত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনকে দুর্বল করে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা।
নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবর্তনের পর গাজায় হামলা জোরালো হওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং হামাসকে শান্তিচুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়গুলো মূলত তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের যৌথ কৌশলের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করে একটি ক্ষমতাহীন রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করা, যাতে তারা নিজেদের লক্ষ্যগুলো সহজেই হাসিল করতে পারে। তবে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে এটি স্পষ্ট যে, জায়নবাদী এই আগ্রাসী শক্তির কাছে সামান্য পিছিয়ে গেলেই তাদের আক্রমণ ও চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
ফিলিস্তিনি জনগণ এবং প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো খুব ভালো করেই জানে যে নিরস্ত্রীকরণের এই দাবি আসলে একটি সুদূরপ্রসারী ফাঁদ। হামাস যদি এই ফাঁদে পা দিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করে, তবে ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ আরও স্থায়ী ও শক্তিশালী হবে।
এই পরিস্থিতিতে হামাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর কঠোর অবস্থান বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের শর্ত সাপেক্ষে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে—হামাসের পক্ষ থেকে এমন অবস্থানকেই সঠিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্যের কাঠামোর মধ্যে থেকে এই দাবিকে জোরালোভাবে ধরে রাখতে হবে। প্রথমে গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলে নির্বিঘ্নে মানবিক ও স্বাস্থ্যগত সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। এরপর ফিলিস্তিনি দলগুলোর নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমেই কেবল নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।
আয়শা/০২ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:২৩
