ব্রেকিং নিউজ
৯ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি টাকা মধ্যপ্রাচ্যে একযোগে ৫ দেশে ইরানের অতর্কিত হামলা বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫১, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘জমির উদ্দিন সরকার শুধু রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান’ রাত ১টার মধ্যে ১৭ জেলায় অতিভারী বৃষ্টির আভাস খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের চট্টগ্রামের বন্যা উন্নতির পূর্বাভাস, সিলেট-রংপুরে শঙ্কা চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ খামেনির জানাজা-দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন ৪ কোটিরও বেশি মানুষ

ডলার-স্বর্ণ দ্বৈরথে এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কি বিপদে?

Anima Rakhi | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ - ০৮:৪৪:৩৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে স্বর্ণের টানা মূল্যবৃদ্ধির যে ধারা এতদিন ধরে চলছিল, তা হঠাৎ করেই বড় ধরনের পতনে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ডলারের অব্যাহত আধিপত্যের মুখে স্বর্ণের বাজারে এই ধস নেমেছে। আর এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে এশিয়ার সেইসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, যারা মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে গত কয়েক মাস ধরে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ করছিল। বিশেষ করে চীনের পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি), রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং ব্যাংক অব জাপান গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছিল, তাতে এই দরপতন তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।

গত জুন মাসেও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রিজার্ভে ১৫ টন স্বর্ণ যোগ করেছে, যা ছিল ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের সবচেয়ে বড় একক ক্রয়। কিন্তু এরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়, যা বেইজিংয়ের নীতি নির্ধারকদের জন্য মোটেও স্বস্তির খবর নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি সর্বোচ্চ ৫৬০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি শীঘ্রই ৬০০০ ডলার স্পর্শ করবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে গত কয়েক মাসে স্বর্ণের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ কমে এখন ৪০০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের এই দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যার ফলে স্বর্ণের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার পুরো সমীকরণ উল্টে গেছে। ইরান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিকে আরও বেড়েছে। আর এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর পথ থেকে সরে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে মার্কিন ডলার এবং পেট্রোডলারের দিকে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এতে ডলার আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ সম্প্রতি কংগ্রেসে দেওয়া এক বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার বাড়ানোর পথেই হাঁটতে পারে ফেড। সুদের হার উচ্চ থাকায় স্বর্ণের মতো কোনো সুদ বা লভ্যাংশ না দেওয়া সম্পদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ থেকেও বড় অঙ্কের তহবিল উঠে গিয়ে পুনরায় মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে যুক্ত হচ্ছে, যা স্বর্ণের বাজারে ধসকে ত্বরান্বিত করেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট পুরোপুরি কেটে যায়নি। প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল জাতীয় ঋণ, সাড়ে তিন থেকে চার শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্ক নীতির কারণে বিশ্বমঞ্চে মার্কিন ডলারের আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ব্রিকস জোটের দেশগুলো মার্কিন ডলারের একচেটিয়া ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়েও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত মার্কিন ডলারের ওপরেই ভরসা রাখছেন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনা ইউয়ানের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর যে লক্ষ্য বেইজিং নির্ধারণ করেছিল, তা আপাতত ধীরগতির হয়ে পড়েছে।

স্বর্ণের এই আকস্মিক দরপতনের মুখে এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন কী করবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো কি দাম কমে যাওয়ার এই সুযোগে আরও বেশি করে স্বর্ণ কিনে তাদের ডলার-মুক্তকরণ প্রক্রিয়া সচল রাখবে, নাকি রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বর্ণ বিক্রি শুরু করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে পোল্যান্ডের মতো কিছু দেশ এই দরপতনকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে এবং তারা বাজার থেকে কম দামে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রেখেছে। 

সূত্র: এশিয়া টাইমস

কিউটিভি/অনিমা/১৫ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:৪০

▎সর্বশেষ

ad