ডেস্ক নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সোমবার (৬ জুলাই) স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। এর আগে আজকের সেশনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ নীতি নির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যার প্রভাব পড়েছে ডলার ও স্বর্ণের বাজারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্কিন ডলারের সূচক ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারের মূল্যে কেনা স্বর্ণ কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, স্বর্ণ বর্তমানে একটি স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে স্বর্ণের দাম ধরে রাখতে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও হ্রাস পাওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বর্ণ বর্তমানে ৩,৯০০ থেকে ৪,০০০ ডলারের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে, তবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাধা রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ২০০ দিনের মুভিং এভারেজ ৪,৪৮৫ ডলারের স্তরটি।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কমে যায়, যার ফলে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহের পতনের ধারায় ইতি টানে মূল্যবান এই ধাতু। সিএমই ফেডওয়াচ জানায়, ব্যবসায়ীরা আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫৬ শতাংশ দেখছেন, যা কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের আগে ছিল ৬০ শতাংশের ওপরে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণ ধরে রাখার খরচ বাড়িয়ে দেয়, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদের রিটার্ন দেয় না।
আগামী বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের গত ১৬-১৭ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যা নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের অধীনে প্রথম বৈঠক ছিল। এই কার্যবিবরণী থেকে নীতিনির্ধারকদের সুদের হার সংক্রান্ত ভাবনার আরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে জেপি মরগান গত শুক্রবার এক নোটে জানিয়েছে যে প্রধান খাতগুলো থেকে সোনার চাহিদা প্রত্যাশানুযায়ী শক্তিশালী নাও হতে পারে। এর ফলে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সোনার দাম ৪,৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪,৫০০ ডলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২.১২ ডলারে নেমে এসেছে, যদিও সেশনের শুরুতে এটি গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৬৪৩.৪৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,২৮২.৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
আয়শা/০৭ জুলাই ২০২৬,/রাত ২:২২
