স্পোর্টস ডেস্ক : ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় মুখোমুখি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল মিশর। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে মোহাম্মদ সালাহকে সামনে রেখে আফ্রিকার নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। প্রায় ৭১ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার আধুনিক এই স্টেডিয়াম বিশ্বমানের অবকাঠামো, রিট্র্যাকটেবল ছাদ এবং অত্যাধুনিক পরিবেশের জন্য পরিচিত।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা সব সময়ই অন্যতম পরাশক্তি। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেরা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে মিশর বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী না হলেও আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল। এবার তারা নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়াকে ৩–০, অস্ট্রিয়াকে ২–১ এবং জর্ডানকে ২–০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয় তারা। তিন ম্যাচেই আক্রমণ ও রক্ষণে ছিল ভারসাম্য। শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দেকে ৩–১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মিশরের যাত্রাও ছিল দারুণ লড়াকু। গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে শুরু। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটের পথে এগিয়ে যায়। শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১–১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪–২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বয়স বাড়লেও তার পাস, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো অতুলনীয়। আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ ধারাবাহিক গোল করে দারুণ ফর্মে রয়েছেন। লাউতারো মার্টিনেজ সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পল ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দলের ছন্দ ধরে রেখেছেন। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো এবং গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এখনো আস্থার প্রতীক।
মিশরের ভরসা অবশ্যই মোহাম্মদ সালাহ। চলতি বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বই বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করেন তিনি। শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে টাইব্রেকারের নাটকীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার সঙ্গে ওমর মারমুশ ধারাবাহিকভাবে গতি যোগ করছেন আক্রমণে। ত্রেজেগে, হামদি ফাতহি ও মারওয়ান আতিয়া মাঝমাঠে কঠোর পরিশ্রম করছেন। রক্ষণে মোহামেদ আবদেলমোনেম এবং গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি মিশরের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাসের সুর। অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেছেন,’ মিশরকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সালাহ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমাদের ধৈর্য ধরে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। আমরা জানি সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’মিশর শিবিরেও আত্মবিশ্বাস কম নয়। কোচ হোসাম হাসানের কথা,’আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কিন্তু ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। আমরা ভয় নিয়ে মাঠে নামছি না। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব।”
অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ বলেছেন,’আর্জেন্টিনাকে সম্মান করি, আমরা নিজেদের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামব। আফ্রিকার ফুটবলের জন্য নতুন ইতিহাস গড়তে চাই।”ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে মেসি বনাম সালাহ। আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একে অপরের বিপক্ষে নামছেন। একজন বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একটি শিরোপার পথে এগোতে চান, অন্যজন নিজের দেশকে প্রথমবারের মতো আরও দূরে নিয়ে যেতে চান।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াই দুই মহাদেশের ফুটবল সংঘর্ষ। একদিকে লাতিন আমেরিকার শিল্প, অন্যদিকে আফ্রিকার অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা। শেষ বাঁশি বাজার পর কে উদযাপন করবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট? বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নাকি মোহাম্মদ সালাহর নেতৃত্বে নতুন ইতিহাস গড়া মিশর? সেই উত্তর মিলবে আটলান্টার আলোঝলমলে রাতে।
আয়শা/০৭ জুলাই ২০২৬,/রাত ১২:০০
