স্পোর্টস ডেস্ক : কেরালায় ব্রাজিল সমর্থকের অভাব কখনোই ছিল না। কিন্তু কাক্কানাডের অধিবাসী অক্ষয়ের পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সমর্থন করার বিষয়টি একেবারেই ব্যক্তিগত। দক্ষিণ আমেরিকান দলটির সাফল্য হয়ত চার বছর ধরে শয্যাশায়ী থাকা তাদের প্রিয় অক্ষয়কে আবার হাঁটতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তন ইতোমধ্যেই ২৬ বছর বয়সী অক্ষয়ের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। এতে তার পরিবারের নতুন করে আশা জেগেছে যে ফুটবলের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা সুস্থতার পথেও ভূমিকা রাখতে পারে। গত শনিবার (২০ জুন) কয়েকজন বন্ধু অক্ষয়কে দেখতে গিয়ে জানিয়েছিলেন যে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তারা তার মধ্যে দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখেছেন।
গত শনিবার যখন ব্রাজিল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হয়, তখন তাদের বাড়ির কাছেই একটি স্থানীয় ক্লাব বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছিল। অক্ষয়ের বাবা কে টি পুরুষোত্তমন, যিনি পেশায় একজন হেডলোড শ্রমিক, ম্যাচের আগে বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার বাইরে গত চার বছরে এটাই হবে আকশয়ের প্রথম বাইরে বের হওয়া।’
নিজেও একসময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন অক্ষয়। তিনি ছিলেন ব্রাজিলের একনিষ্ঠ সমর্থক। তার পরিবার কখনও কল্পনাও করেনি যে ফুটবল ঘিরে এমন একটি ঘটনা তাদের জীবনে নেমে আসবে। পুরুষোত্তমন এখনও সেই দিনের কথা ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের হারের দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অক্ষয় বাড়ি ফিরছিল না। পরে তাকে সেই পাবলিক স্ক্রিনিংয়ের জায়গায় নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। আমরা দ্রুত তাকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
চিকিৎসকেরা দ্রুত জানিয়ে দেন, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে অক্ষয়ের স্ট্রোক হয়েছে। গত চার বছর ধরে পরিবারের পাশে থাকা কানিভু প্যালিয়েটিভ কেয়ারের আঞ্চলিক সম্পাদক প্রদীপ এন কে বলেন, ‘ম্যাচ চলাকালীন বা ম্যাচের পরপরই তার স্ট্রোক হয়েছিল।’অক্ষয়ের বন্ধুরা জানান, শেষ বাঁশি বাজার পর সে একদম স্থির হয়ে বসে ছিল। তারা ভেবেছিল, প্রিয় দলের হৃদয়ভাঙা পরাজয় সামলাতে সে একা থাকতে চায়। তাই চুপচাপ চলে গিয়েছিল।
কিন্তু যেটিকে তারা শোক ভেবেছিল, সেটিই ছিল আসলে একটি চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা। চার বছর ধরে তার শরীরে শুধু চোখ দুটিতেই কিছু নড়াচড়ার লক্ষণ দেখা গেছে। পরিবার কখনও নিশ্চিত হতে পারেনি, সে আশপাশে কী ঘটছে তা বুঝতে পারছে কি না। তার মা জয়া বলেন, ‘কেউ আমাদের বাড়িতে এলে সে চোখ বন্ধ করে রাখে। তারা চলে যাওয়ার পর আবার চোখ খোলে।’প্রদীপের বিশ্বাস, ফুটবল আবারও অক্ষয়ের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এবার তার সুস্থ হয়ে ওঠার পথে।তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি তার জন্য একটি টেলিভিশনের ব্যবস্থা করতে, যাতে সে বাসায় বসেই ব্রাজিলের ম্যাচগুলো দেখতে পারে।’
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। দলটি সহজেই শেষ ৩২-এ পৌঁছাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যদিও খুব কম মানুষই তাদের শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করছেন। কিন্তু অক্ষয়ের পরিবারের কাছে ফলাফলের গুরুত্ব ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের কাছে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি জয়, নতুন করে বেঁচে ওঠার এক একটি আশার আলো।
আয়শা/২১ জুন ২০২৬,/রাত ১১:২৩
