সবাইকে প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান তারেক রহমানের

superadmin | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ - ০৮:০৩:৫২ পিএম

ডেস্কনিউজঃ প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আমরা আমাদের নিজেদের চিন্তা কিছুটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, আমার সাথে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু আপনি এখন প্রতিশোধ নিলেই কি আপনার সেই ক্ষতি ফেরত পাবেন বা সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে? হবে না। তাহলে আমরা সেই প্রতিশোধের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) থেকে বেরিয়ে এসে ভাবি যে আমরা দেশের জন্য, সমাজের জন্য বা মানুষের জন্য কী করতে পারি? সফল হওয়া বা না হওয়া পরের ব্যাপার, অন্তত এই মানসিকতা নিয়ে কেন আমরা সামনের দিনে এগিয়ে যাব না?

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিএনপি বিট’ কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সংবাদপত্র জগতের জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের এই দিনে একসময় বাংলাদেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আর আজ সেই দিনে আমরা এতসংখ্যক সাংবাদিক ভাইয়ের সাথে কথা বলছি! তার মানে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে সংবাদপত্রের কণ্ঠ যেভাবে চেপে ধরা হয়েছিল, সেটি অন্তত এই মুহূর্তে আর নেই। এটি প্রথম বিষয়।’

“দ্বিতীয় বিষয় হলো, সংবাদপত্রের যে মাল্টি-পার্টি ডেমোক্রেসি (বহুদলীয় গণতন্ত্র), সেটিকে কেড়ে নিয়ে মাত্র চারটি সংবাদপত্র বাদে সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একই সময়ে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে ‘বাকশাল’ নামে একটি দল গঠন করা হয়েছিল। পরে আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন এবং একই সাথে সংবাদপত্রের ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। পরবর্তী সময়ে কী হয়েছে বা কতটুকু হয়েছে, তা আপনাদের কথা থেকেই বেরিয়ে এসেছে।”

ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো একটি জায়গা ঘিরে ফেলেছে এবং আমাদের কোনো সক্রিয় নেতৃত্ব বা কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সে সময়ে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের কারণে আমাদের অনেক নেতৃত্ব বা সক্রিয় কর্মী সেদিন গ্রেফতার হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। আপনারা সহযোগিতা করেছেন। আগে বা এত বছর আমাদের এভাবে সামনাসামনি বসার সুযোগ হয়নি। আজকে এই অনুষ্ঠানে আপনাদের সাথে বসার সুযোগ হয়েছে। আমার দলের নেতাকর্মীদের বিপদের সময় সহযোগিতা করার জন্য, তাদের ওপর হওয়া অত্যাচার-নির্যাতনের কাহিনী শত বাধা-বিপত্তির মধ্যেও তুলে ধরার জন্য এবং তাদের পাশাপাশি থেকে একই কষ্ট ভোগ করার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই।

সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের পত্রিকাতেও প্রায়ই নিউজ আকারে আসে, সেটি হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ড্রাগস বা মাদকের সমস্যা। এখন আপনি কতজনকে ধরবেন, কতজনকে চিকিৎসা দেবেন বা কতজনকে কাউন্সিলিং করবেন? সবকিছুরই তো রিসোর্সের লিমিট (সম্পদের সীমাবদ্ধতা) এবং ক্যাপাসিটি (ক্ষমতা) আছে। তাহলে বিষয়টিকে অন্য কিভাবে অ্যাড্রেস করা যায়? সে বিষয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

বিপুল/১৬.০৬.২০২৬/রাত ৮.০০

▎সর্বশেষ

ad