নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

superadmin | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ - ০৯:১৩:৫২ পিএম

ডেস্কনিউজঃ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হট্টগোল হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করার নির্দেশ দেন।

আজ রোববার ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন মনিরুল হক চৌধুরী। এসময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গণমুখী’ হিসেবে আখ্যা দেন। ৬ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকার বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রার প্রশংসা করেন। একইসাথে কুমিল্লা-ঢাকা রেললাইন প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সময় এই প্রকল্পের জরিপ হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর দেশ পরিচালনায় তারেক রহমান সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন।’ বিএনপি ও তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছোট করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার বক্তব্য ঘিরে সংসদে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

এক পর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৬৮ সালে গোলাম আযমের নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এবং জামায়াতকে ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেন। এ মন্তব্য নিয়ে সংসদে তর্ক-বিতর্ক দেখা দেয়।

পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন তিনি ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের প্রসঙ্গ তুলে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। তিনি পর্দানশীল জামায়াতের নারী এমপিদের উদ্দেশ্যে একপর্যায়ে বলেন, ‘….দু’জনের বক্তব্য শুনেছি, তারা মেধাবী। কিন্তু, বুঝলাম না তো কারা আপনারা?’

বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা এদিকে (সরকার দলীয় নারী এমপিদের) দেখতে বুঝতে পারেন, কিন্তু আমরা ওদিকে তাকালে কিছু বুঝতে পারি না।’

তার এই বক্তব্য ঘিরে বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। হট্টগোলের মধ্যে অধিবেশন কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সদস্যদের নিজ নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে রুলিং দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই মহান সংসদ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করার জায়গা নয়। আমরা যদি নিজেদের শালীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে লজ্জিত হতে হবে।’

এরপর তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর ‘পার্সোনাল ফ্রিডম’–সংক্রান্ত বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন।

তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘তার কোনো বক্তব্যে কারো আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে তিনি তা প্রত্যাহার করছেন।’

হট্টগোল চলাকালে ডেপুটি স্পিকার আসরের নামাজের বিরতির জন্য অধিবেশন ৩০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।

বিপুল/১৪.০৬.২০২৬/রাত ৯.০৬

▎সর্বশেষ

ad