আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত শনিবার (৩০ মে) রাতে রাজধানী তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘২৭ রজব’ নামের নতুন এই নৌযানটি উন্মোচন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নৌযানটি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ নট (প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার) গতিতে চলতে সক্ষম।
পাশাপাশি এটি দীর্ঘ-পাল্লার দুটি ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপের সক্ষমতা রাখে। মিসাইলগুলো ৭০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই নৌযানটিকে ইরানের সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই নৌযানটির উন্মোচন এমন এক পরিস্থিতিতে হলো, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত কয়েক মাস ধরে বারবার দাবি করে আসছিলেন যে, ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে অথবা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথে ইরানের নৌবাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন ও কর্তৃত্বপূর্ণ উপস্থিতি এটাই নির্দেশ করে যে, দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কেবল বজায়ই রাখা হয়নি, বরং তা উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের পথেও রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আজকের নৌ-যুদ্ধ শুধুমাত্র বড় এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ দ্বারা নির্ধারিত হয় না।
সাম্প্রতিক দশকগুলোর সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্পষ্ট যে, নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত এবং তথ্য ও অপারেশনাল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত ছোট, দ্রুতগামী নৌযানগুলোও ভারী ও ব্যয়বহুল জাহাজগুলোর জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক পরিবেশে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি এবং পাল্টা জবাবের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সশস্ত্র দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌযান তৈরির কৌশলকে অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
‘২৭ রজব’ নৌযানটিকেও এই একই কাঠামোর মধ্যে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। এটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসির নৌবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন পালক যুক্ত করেছে। বাহিনীর কাছে আগে থেকেই হায়দার ১১০, তারেক, আশুরা, যুলফাগার, সেরাজ, যুলজানাহ, ইয়া মাহদি এবং আজারাখশের মতো দ্রুতগামী আক্রমণকারী নৌবহর রয়েছে।
আয়শা/৩১ মে ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪০
