অভিষেককে ঘিরে উত্তাল ভারত, মমতাকে ফোন রাহুলের

Ayesha Siddika | আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ - ০৭:৩৩:০২ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী শিবির।

ঘটনার পরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন।
রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, আগামী দিনে বিরোধী জোটের কর্মসূচি ও বৈঠকের আগে এই ঘটনা বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে যে রাজনৈতিক দূরত্ব ছিল, সোনারপুরের ঘটনার পর তা কিছুটা হলেও কমার ইঙ্গিত মিলছে।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ বার্তায় বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি গণতন্ত্র ও জনগণের রায়ের ওপরও আঘাত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও সহিংসতার কারণ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান কংগ্রেস নেতা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেসের আরেক শীর্ষ নেতা কে সি বেণুগোপাল বলেন, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনও সহিংসতায় রূপ নিতে পারে না। শুধু কংগ্রেস নয়, বিরোধী জোটের অন্য শরিক দলগুলোর নেতারাও একযোগে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, বাংলার একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। বিরোধী কণ্ঠকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা দেশের গণতন্ত্রের জন্য শুভ বার্তা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদব, শিবসেনার আদিত্য ঠাকরে, শরদ পওয়ার ঘনিষ্ঠ নেতা রোহিত পওয়ারসহ একাধিক বিরোধী নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
রাজ্যসভার সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, একজন সাংসদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানানো প্রয়োজন।
বামপন্থী নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে তিনি একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো বিজেপিবিরোধী অবস্থানকে আরও জোরালো করার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরও গতি পেতে পারে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা দাবি করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
সোনারপুরের ঘটনাকে ঘিরে এখন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী জোটের ভেতরে ঐক্যের যে বার্তা সামনে এসেছে, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

 

আয়শা/৩১ মে ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:১৯

▎সর্বশেষ

ad