প্রথম ব্রিটিশ বিলিয়নিয়ার ক্রীড়াবিদ ডেভিড বেকহ্যাম

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ - ১০:০৮:৫০ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল মাঠে নিখুঁত ও বাঁকানো ফ্রি-কিকের জাদু দেখিয়ে একসময় বিশ্বকে বুদ করে রাখতেন সাবেক ইংলিশ তারকা ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম। এবার মাঠের সেই সাফল্যের ধারা বজায় রেখে বিলিয়নিয়ার বা ধনকুবেরদের তালিকায় নিজের নাম লেখালেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।

সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড বেকহ্যাম এবং তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন এক অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এই তারকা দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.১৮৫ বিলিয়ন পাউন্ড (১১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড)। 

এর মাধ্যমে ডেভিড বেকহ্যাম যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের প্রথম ‘বিলিয়নিয়ার অ্যাথলেট’ বা ধনকুবের ক্রীড়াবিদ হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। একসময় যিনি কেবল তার বৈচিত্র্যময় হেয়ারস্টাইল আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত গোলের জন্য পরিচিত ছিলেন, তার জন্য এটি এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য উত্থানের গল্প। 

বেকহ্যামের এই অভাবনীয় সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে বড় একটি ধন্যবাদপত্র পেতেই পারেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি। ডেভিড বেকহ্যামের মালিকানাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস ক্লাব ‘ইন্টার মায়ামি সিএফ’-এর বাণিজ্যিক মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে মূলত মেসির আগমনের পর থেকেই। 

৫১ বছর বয়সি বেকহ্যাম কেবল মেসিকে ক্লাবে আনেননি, বরং এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে আরও তিন বছর মায়ামিতে রাখার পেছনেও বড় ভূমিকা পালন করেছেন। বেকহ্যামের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ ফুটবল ভক্তদের চেয়ে তার ক্লাবের অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও হিসাবরক্ষকদের যে বেশি খুশি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শুধু ফুটবল মাঠের টিকিট বা স্পনসরশিপের টাকাই নয়, বেকহ্যামের মায়ামি সাম্রাজ্য এখন মাঠ ছাড়িয়ে আবাসন খাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়ামকে ঘিরে নির্মিত ১৩১ একরের একটি বিশাল বাণিজ্যিক ও আবাসন প্রকল্পের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি। 

এই দম্পতির বিলিয়নিয়ার হওয়ার পেছনে কেবল ডেভিডের ফুটবল ক্যাশ নয়, তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের ব্যবসায়িক বুদ্ধিরও বড় অবদান রয়েছে। আশির দশকের বিখ্যাত পপ ব্যান্ড ‘স্পাইস গার্লস’-এর সাবেক সদস্য ভিক্টোরিয়া (যিনি ‘পশ স্পাইস’ নামে পরিচিত) তার নিজস্ব ফ্যাশন লেবেল বা ব্র্যান্ডকে একসময় লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে একটি লাভজনক পাওয়ার হাউসে পরিণত করেছেন। 

শুরুর দিকে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে ভিক্টোরিয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে সব সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তার ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি এখন বার্ষিক ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি রাজস্ব তৈরি করছে। 

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে ডেভিড বেকহ্যামের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক চুক্তি, বিভিন্ন ব্যবসার লভ্যাংশ এবং বিশ্বজুড়ে বহুল সমাদৃত ‘ব্র্যান্ড বেকহ্যাম’-এর বিপণন ক্ষমতা। এই সবকিছুর সম্মিলিত রূপই আজকে তাদের এই বিলিয়নিয়ার খেতাব এনে দিয়েছে। অবসর জীবন যে এতটা লাভজনক ও অর্থপূর্ণ হতে পারে, ডেভিড বেকহ্যাম যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ। 

সূত্র: জিও নিউজ 

 

 

আয়শা/ ১৭ মে ২০২৬,/রাত ১০:০৮

▎সর্বশেষ

ad