১২ দেশে মাঙ্কিপক্স, ডব্লিউএইচও’র জরুরি বৈঠক

superadmin | আপডেট: ২১ মে ২০২২ - ১১:১৮:৩৩ পিএম

ডেস্কনিউজঃ পৃথিবীর অন্তত ১২টি দেশের ১০০ জনেরও বেশি লোকের দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার (২০ মে) এক জরুরি বৈঠকে বসেছে।

জার্মানি এই সংক্রমণকে ইউরোপে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইতোমধ্যে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, যুক্ত্ররাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্পেনে ২৪ জনের দেহে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ইসরায়েলের এক হাসপাতালে ৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যার শরীরে মাঙ্কিপক্সের লক্ষণ দেখা গেছে। তিনি সম্প্রতি পশ্চিম ইউরোপ ভ্রমণ শেষে ইসরায়েলে গেছেন।

জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা পরিষেবা বলেছে, ‘এটি ইউরোপে দেখা সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বিস্তৃত মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব।’

এক বিবৃতিতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সংক্রমণ অস্বাভাবিক কারণ এগুলো এমন দেশে ঘটছে যেগুলো এ ভাইরাসটির স্বাভাবিক আবাসস্থল নয়।

মাঙ্কিপক্স এমন একটি ভাইরাসবাহিত রোগ যা সাধারণত মৃদু অসুস্থতা সৃষ্টি করে এবং অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তিই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। এটি খুব সহজে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের ছড়াতে পারে না, এবং মনে করা হয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই মাঙ্কিপক্স ছড়ানোর সম্ভাবনা কম।

মাঙ্কিপক্সের কোন সুনির্দিষ্ট টিকা নেই। তবে গুটিবসন্তের টিকা নিলে তা মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধেও ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দিয়ে থাকে – কারণ এ দুটি ভাইরাসের অনেক মিল আছে।

বিজ্ঞানীরা ‘বিস্মিত’

বিবিসির স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদদাতা জেমস গ্যালাহার বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির অভিজ্ঞতার পর মাঙ্কিপক্সের খবর শুনে যারা উদ্বিগ্ন বোধ করছেন তাদের স্পষ্ট করে দেওয়া দরকার যে এটা কোভিডের মত কিছু নয়।

এ ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়াতে “অনেকটা সময়ের জন্য ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে” আসার দরকার হয়। তবে যে ব্যাপারটা বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে তা হলো – আগে কারো মাঙ্কিপক্স হলে তার সঙ্গে পশ্চিম বা মধ্য আফ্রিকার সংযোগ সহজেই বের করা যেতো।

কিন্তু এবার এই প্রথমবারের মত ভাইরাসটি এমন লোকের মধ্যে দেখা যাচ্ছে যাদের সাথে ওই দুটি অঞ্চলের কোন স্পষ্ট যোগাযোগ দেখা যাচ্ছে না। এখন যাদের মাঙ্কিপক্স হচ্ছে তারা কোথা থেকে সংক্রমিত হচ্ছে – তাও স্পষ্ট নয়।

তাই ভাইরাসটির আচরণে কোনো পরিবর্তন হয়ে থাকলে তা সবসময়ই বিজ্ঞানীদের উদ্বিগ্ন করে।

যৌন আচরণের সাথে সম্পর্ক?

যারা মাঙ্কিপক্সে সংক্রমিত হচ্ছেন তাদের অনেকেই সমকামী বা উভকামী তরুণ বা যুবক। যৌন ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মাঙ্কিপক্স ছড়াচ্ছে এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই যৌনাঙ্গ এবং তার আশপাশের জায়গায় গুটি হতে দেখা যাচ্ছে।

জেমস গ্যালাহার জানাচ্ছেন, কেন সমকামী-উভকামী পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়। এটা কি শুধুই ঘটনাচক্রে এমন হচ্ছে, নাকি যৌন আচরণের ফলে ভাইরাসটি সহজে ছড়াতে পারছে – তাও স্পষ্ট নয়।

মাঙ্কিপক্স সংক্রমিত কারও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে তা অন্যের দেহে ছড়াতে পারে। ফাটা বা কাটা চামড়া, চোখ, নাক বা মুখ দিয়ে মানুষের দেহে ঢুকতে পারে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসটি । এটিকে আগে যৌনসম্পর্কবাহিত রোগ বলে চিহ্নিত করা হয়নি । কিন্তু বলা হচ্ছে যে যৌনমিলনের সময় ভাইরাসটি সরাসরি একজন থেকে আরেকজনের দেহে চলে যেতে পারে।

ব্রিটেনের চিকিৎসকরা এর মধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছেন যে মাঙ্কি সেদেশের যৌনস্বাস্থ্য সেবার ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলতে পারে, এবং এধরনের কিছু ক্লিনিকের কর্মীদের এর মধ্যেই গুটিবসন্তের টিকা দেওয়া হয়েছে।

মাঙ্কিপক্স কীভাবে ছড়ায়

মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত রোগ, এবং সাধারণতঃ এটি ‘মৃদু’ অসুস্থতা সৃষ্টি করে। মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার বাইরে এ রোগ খুবই বিরল। এই ভাইরাসটি গুটি বসন্ত রোগের ভাইরাসের মত একই গোত্রের – কিন্তু অনেক কম মারাত্মক, এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এতে সংক্রমিত হবার সম্ভাবনাও কম।

এটি একটি ডিএনএ জাতীয় ভাইরাস – এবং কোভিড বা ফ্লু ভাইরাসের মত সহজে বা দ্রুতগতিতে এর মিউটেশন বা রূপান্তর ঘটে না। বিবিসি, রয়টার্স

বিপুল/ ২১.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/ রাত ১১.২০

▎সর্বশেষ

ad