নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কী কী শর্ত দিল ইরান?

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ - ০৯:২৩:৪৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরান তাদের সর্বশেষ যে শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, তাতে নতুন কোনো চমক নেই বললেই চলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে যেসব শর্তকে সরাসরি ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, ইরান মূলত সেই দাবিগুলোই আবার নতুন করে উত্থাপন করেছে। 

তবে এই প্রস্তাবের পর ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এবং কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের ব্যাপারে নতুন করে আশা প্রকাশ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, তেহরানের এই নতুন প্রস্তাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে সামরিক সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবানন পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। 

একই সঙ্গে তেহরান তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান চাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই শর্তগুলোর কথা নিশ্চিত করেছেন।

প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করার পরও সোমবার (১৮ মে) ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের কাছ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি ইরানে পূর্বপরিকল্পিত হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপক বোমাবর্ষণ না করেই যদি এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তবে তিনি অত্যন্ত খুশি হবেন। 

মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে থাকার বৈশ্বিক উদ্বেগের মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং সৌদি আরবের নেতারা তাকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন, কারণ তারা এখনো একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন।

পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া বিরল প্রত্যক্ষ আলোচনার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের এই নতুন প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে সূত্রটি সতর্ক করে বলেছে, উভয় পক্ষই বারবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং সংকট সমাধানের জন্য হাতে খুব বেশি সময় নেই। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও পুরো অঞ্চলজুড়ে এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পরও ইরান এখনো তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধরে রেখেছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে কূটনৈতিক আলোচনা সচল থাকলেও, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার দূরত্বের ব্যবধান এখনো আকাশচুম্বী।

সূত্র: গালফ নিউজ।

 

 

আয়শা/ ১৯ মে ২০২৬,/রাত ৯:০৪

▎সর্বশেষ

ad