আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং ভঙ্গুর সরকারি সেবার প্রতিবাদে ফরাসি শহরগুলোতে হওয়া নজিরবিহীন অস্থিরতা ও সহিংসতার ক্ষত সামলে ওঠার চেষ্টা করছে ফ্রান্স। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য আটক রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সের এই নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতির কারণে আরও বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছেছে। জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল, যার ওপর এই সহিংসতার ফলে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাসে চরম ধস নেমেছে। বাজেট ঘাটতি কমানোর সরকারি পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে চরম রাজনৈতিক বিভাজন দেখা দিয়েছে, যার ফলে সংখ্যালঘু সরকারের পতন ঘটার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সংশয়ে আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে ফরাসি বন্ডের সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড গড়েছে।
এই অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ কেবল ফ্রান্সের সীমান্তেই থেমে নেই, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রতিবেশী ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও আলবেনিয়ার মতো দেশগুলোতেও দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে অসন্তোষ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে।
এই সংকটের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তার সরকার চরম রাজনৈতিক দুর্বলতার মুখে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলার পক্ষে কঠোর অবস্থান নেওয়া ডানপন্থী প্রার্থী মারিন ল্য পেনের নির্বাচনী অবস্থান এতে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিদেশি পর্যটকদের বড় ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস।
আয়শা/২০ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১১:০০
