ডেস্ক নিউজ : একদিকে মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে পূজামণ্ডপে বাজে কাঁসর-ঘণ্টা। নামাজের সময় মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ফরিদপুর শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়।
শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়সংলগ্ন মডেল মসজিদের দুই পাশে রয়েছে জেলা বাস মালিক সমিতি ও জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির দুটি পূজামণ্ডপ। মসজিদ ও মণ্ডপের এমন পাশাপাশি অবস্থান ঘিরে এখানে বিরাজ করছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্গোৎসব ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে নানা আয়োজন। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে। নামাজের সময় মণ্ডপের বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক শহর। মাঝখানে মসজিদ আর দুই পাশে পূজামণ্ডপ থাকলেও এ নিয়ে কখনো কোনো ভেদাভেদ তৈরি হয়নি। পরস্পরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বহু বছর ধরে তারা এভাবেই পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সম্প্রীতির এ চিত্র দেখে মুগ্ধ হন।
সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে এম কিবরীয়া স্বপন বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই ফরিদপুরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস ও উৎসব পালন করে আসছেন। এ সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে রাজনৈতিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের আনসার ব্যাটালিয়নের উপপরিচালকের পক্ষে মাদারীপুর আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক তানজিনা জানান, এখানকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। একই জায়গায় মসজিদ ও পূজামণ্ডপের সহাবস্থান সারা দেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
আয়শা/২০ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:৪০
