ক্যানসার গবেষকের প্রাণ গেল ক্যানসারেই

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ - ০৩:৩৫:৫৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ড. রচনা শ্রফ মারা গেছেন। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে টার্মিনাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা বা প্রোস্টেট ও গ্রন্থিভিত্তিক এক ধরনের আক্রমণাত্মক ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

কে ছিলেন ড. রচনা শ্রফ?

বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, ড. শ্রফ ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত একজন চিকিৎসক-বিজ্ঞানী, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অনকোলজিস্ট এবং অগ্ন্যাশয় ও পিত্তনালীর (বাইলার ডাক্ট) ক্যানসার চিকিৎসায় অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ।

অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের প্রধান, অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটি ক্যানসার সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশনের সহযোগী পরিচালক এবং মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অনকোলজির জন্য প্রথম ‘জন এফ. অ্যান্ড ভাল্লি এস. ডুভাল এনডাউড প্রফেসর’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং কলেজ অব মেডিসিন-টাসসনের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চের সহযোগী ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

নিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ৮০টিরও বেশি গবেষণা নিবন্ধ লিখেছেন এবং জটিল ও বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (অ্যাসকো) সহ তার সহকর্মী ও বিভিন্ন পেশাদার সংগঠন তাকে একজন দয়ালু চিকিৎসক এবং অগ্রপথিক হিসেবে স্মরণ করছে, যিনি ক্যানসার রোগীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে গেছেন। 

তিনি ব্রাউন ইউনিভার্সিটি থেকে তার স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি থেকে মেডিকেল ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১০ সালে টেক্সাস ইউনিভার্সিটি এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টার থেকে ফেলোশিপ শেষ করার পর, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এমডি অ্যান্ডারসন ক্যানসার সেন্টারে জিআই মেডিকেল অনকোলজির সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তিনি টাসসনে নিজের শিকড়ে ফিরে আসেন এবং অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। 

কীভাবে ধরা পড়েছিল রোগটি?

চলতি বছরের শুরুর দিকে নিজের শরীরে একটি ফোলা লিম্ফ নোড দেখতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে এই মরণব্যাধির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত লড়াই শুরু হয়। 

প্রাথমিকভাবে এটিকে এক ধরনের লিম্ফোমা বলে ধারণা করা হলেও, পরবর্তী চিকিৎসাগত মূল্যায়নে জানা যায় যে রোগটি ততক্ষণে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে এবং অত্যন্ত আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। 

শেষ পর্যন্ত তার শরীরে টার্মিনাল অ্যাডেনোকার্সিনোমা ধরা পড়ে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর আস্তরণ সৃষ্টিকারী গ্রন্থি থেকে উৎপত্তি হওয়া এক ধরনের ক্যানসার। 

ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৩ বছর বয়সি পুত্র সন্তান শচীন এবং ১৭ বছর বয়সি কন্যাসন্তান সিমরনের জননী ছিলেন। তার স্বামী ডা. পুনিত শ্রফ—যিনি একজন মেডিসিনের অধ্যাপক এবং ব্যানার মেডিকেল গ্রুপের অ্যালার্জি ক্লিনিকের সহযোগী পরিচালক— অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

 

আয়শা/১৬ অক্টোবর ২০২৬,/বিকাল ৩:৩৩

▎সর্বশেষ

ad