আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তা করায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে পিয়ংইয়ং।
একই সঙ্গে তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে চীনের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত কি না এবং এর পরিণতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা তাদের আছে কি না—সে বিষয়ে তাদের দুবার ভাবা উচিত।
বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে থাকা তাইওয়ানে গত সপ্তাহে নতুন ৬৬টি এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের চালানের প্রথম দুটি এসে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালে এই বিমানগুলোর জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিল।
গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছিলেন, তিনি ‘এক চীন’ নীতিকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সত্ত্বেও বেইজিং এই নীতির অর্থ হিসেবে মনে করে যে, তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পক্ষই একটি দেশের অংশ।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে শি জিনপিং বলেছিলেন, উভয় পক্ষই কূটনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামরিক বিষয় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াবে।
চীন বরাবরই তাইওয়ানের নেতাদের সঙ্গে বিদেশি নেতাদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের বিরোধিতা করে। অন্যদিকে তাইওয়ান সরকার বলে আসছে, এই দ্বীপের ওপর দাবি করার বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার বেইজিংয়ের নেই।
উত্তর কোরিয়ার মিত্রদেশ চীনও বারবার ওয়াশিংটনের কাছে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে বাধ্য।
বুধবার কেসিএনএর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনে পাঠানো এক বার্তায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম রাশিয়া এবং তাদের যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতি অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিম বলেছেন, দুই দেশের ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় যৌথ কার্যক্রমের প্রসার অব্যাহত থাকবে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় রাশিয়ার ‘ন্যায্য ও পবিত্র যুদ্ধ’ শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হবে।
তবে এই বার্তায় ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে।
আয়শা/০৭ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:১২
