ইবিতে বিএনপি-জামায়াতের পালটাপালটি কর্মসূচি, সমঝোতায় ছাত্রদল-শিবির

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৪:৫৮:৩৭ পিএম

ডেস্ক নিউজ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণায় ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় উভয়পক্ষ। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে উভয় দল কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান।  এদিকে প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় ক্যাম্পাসে সংঘাতের আশঙ্কা কমেছে। তবে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন মধুপুর, শেখপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

জানা গেছে, এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কর্মসূচি দেয় জামায়াত। পরে মাইকিং করে পালটা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় স্থানীয় বিএনপি। এতে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের আশপাশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। আতঙ্কে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম দেখা যায়। বিকাল ৪টায় প্রক্টরিয়াল বডি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সমঝোতা ও সহাবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধান ফটকে ব্রিফিং করে। এছাড়া সংঘর্ষ এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন ও পুলিশ।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, জামায়াত-বিএনপি কর্মসূচি দিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহায়তা করব। তবে গতদিন দেশীয় অস্ত্র হাতে যারা মহড়া দিয়েছিল, তারা আজও পুলিশ প্রশাসনের সামনে ঘোরাঘুরি করছে। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ৫ তারিখের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সমাধানে প্রক্টর অফিসে শিবিরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে আজ আবার বৈঠক করে পুনরায় সমঝোতায় পৌঁছেছি। ইবি ও মিরপুর সার্কেল এএসপি মাহমুদ বলেন, দুদলের নেতৃবৃন্দ সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোনো বহিরাগত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর ইবির এক ছাত্রদল নেতা শিবিরের এক নেতাকে থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অন্যদিকে জিয়া মোড়সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবির। পরে প্রধান ফটক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই জামায়াত কর্মী আহত হন।

 

 

আয়শা/০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৪:৫৫

▎সর্বশেষ

ad