আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি বছরের আগস্টে লাইপজিগ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে জার্মানি। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে তারা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট বলেন, আমরা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত নই, তবে আমরা প্রতিনিয়ত হাইব্রিড হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছি।
এ সময় তিনি দেশের জন্য হুমকি-সংক্রান্ত ঝুঁকির মাত্রা ‘সাধারণ’ থেকে বাড়িয়ে ‘উচ্চ’ পর্যায়ে উন্নীত করেন। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল জানিয়েছেন, জার্মানি চলতি বছরের শেষের দিকে সাবেক রাজধানী বনে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেবে এবং বার্লিনে অবস্থিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রাশিয়ান হাউস’-এর চুক্তি বাতিল করবে।
বার্লিনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করার পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, আমরা রুশ নাগরিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করছি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও বেশি সংখ্যক রুশ ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেবে।
জার্মানির শীর্ষ এই কূটনীতিক ‘রুশ শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর চাপ বাড়ানোরও অঙ্গীকার করেন। এটি এমন এক ধরনের পুরনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য কার্গো জাহাজের বহর, যার মালিকানা অস্পষ্ট এবং যা রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহার করে থাকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী শাখার প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন জানিয়েছেন, ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই সপ্তাহের শেষের দিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞাসহ একটি ‘সুস্পষ্ট পদক্ষেপ’ ঘোষণা করবেন। সুইডেনও এই ঘটনার জেরে স্টকহোমে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। তিনি জার্মানি ও ইউক্রেনের প্রতি নিজেদের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী জার্মানি গত কয়েক মাস ধরেই তাদের সামরিক ও শিল্প স্থাপনাগুলোর ওপর সন্দেহজনক ড্রোন চলাচলের কথা জানিয়ে আসছিল। তবে লাইপজিগের ঘটনাটি বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ সেখানে উদ্ধার হওয়া ড্রোনটিতে বিস্ফোরক পাওয়া গিয়েছিল।
ইউক্রেনীয় একটি কার্গো বিমানের কাছে থাকা বিস্ফোরক ডিভাইসটি নিষ্ক্রিয় করতে পুলিশ একটি রোবট ব্যবহার করে। জানা গেছে, এর কয়েক সপ্তাহ পর বিমানবন্দরের কাছে আরও একটি ড্রোন পাওয়া যায়, যাতে বিস্ফোরক পদার্থের উপস্থিতি ছিল। পূর্ব জার্মানির এই বিমানবন্দরটি সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রে জার্মান সেনাবাহিনী ও ন্যাটো মিত্রদের কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি ইউক্রেনের আন্তোনভ এয়ারলাইন্সের একটি ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ গত সপ্তাহে বলেছেন, জার্মানি হাইব্রিড আক্রমণকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নাম উল্লেখ না করেই সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এর জন্য অপরাধীদের মাশুল দিতে হবে। বার্লিনে অবস্থিত ‘রাশিয়ান হাউস’ বন্ধ করে দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, এটি অপপ্রচার চালানোর কেন্দ্র এবং একই সাথে একটি গোয়েন্দা বা গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
১৯৮৪ সালে তৎকালীন পূর্ব বার্লিনে চালু হওয়া সাততলা বিশিষ্ট ‘রাশিয়ান হাউস অফ সায়েন্স অ্যান্ড কালচার’ ভবনটি রুশ দূতাবাসের কাছেই অবস্থিত। কনজারভেটিভ পার্টির এমপি এবং নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রডেরিখ কিসভেটার সম্প্রতি ‘ওয়েল্ট টিভি’-কে বলেছেন, ধারণা করা হয় এই স্থাপনাটি গুপ্তচরবৃত্তির একটি কেন্দ্র। তিনি জানান, সেখানে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। যাদের পরিচয় সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা নেই।
তিনি আরও বলেন, ভবনটি সম্ভবত কারিগরি নজরদারি সরঞ্জামে পরিপূর্ণ এবং এমন সব মানুষ এটি ব্যবহার করছেন যাদের মনোভাব জার্মানির প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জার্মান সরকার জানিয়েছে, মস্কোতে অবস্থিত ‘গ্যেটে ইনস্টিটিউট’-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কারণে তারা আপাতত ‘রাশিয়ান হাউস’ খোলা রেখেছে।
সূত্র: সিএনএন।
কিউটিভি/অনিমা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ৬:৪৫
