ব্রেকিং নিউজ
ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা চালকের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য : মির্জা ফখরুল

বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে ‘আজীবন’ বহিষ্কারের পিটিশন ভাঙতে চলেছিল ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, অতঃপর…

Ayesha Siddika | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ - ০৫:৪৬:৩৯ পিএম

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে সুন্দর ফুটবল খেলে সমর্থকদের মন জয় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দলটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছালেও শুরু থেকেই তাদের নিয়ে ছিল নানা বিতর্ক এবং দক্ষিণ আমেরিকার এই দলটিকে ফিফা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ। 

এমনকি ফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশন বা গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়। পরবর্তীতে ফাইনাল শেষে খেলোয়াড়দের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা দলটির ভাবমূর্তিকে আরও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। বন্ধ হওয়ার আগে এই পিটিশনে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভাঙার একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। 

টুর্নামেন্ট শেষে আর্জেন্টিনা সম্ভবত বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে অপ্রিয় দলে পরিণত হয়। ম্যাচ শেষে লেয়ান্দ্রো পারেদেসের অনভিপ্রেত আচরণ—যার মধ্যে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে ঘুষি মারা এবং গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত—আর্জেন্টিনাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে একরকম ‘খলনায়কের’ চরিত্রে দাঁড় করিয়ে দেয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময়েও পাউ কুবার্সিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। আর এই লাল কার্ডের ঘটনাটি আলবিসেলেস্তেদের ফাইনাল হারের অন্যতম বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 

ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিশৃঙ্খল আচরণের পর দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি করা পিটিশনটি দ্রুত আন্তর্জাতিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ এতে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংগৃহীত পিটিশনগুলোর একটি। ইউরোপীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আর্জেন্টিনা আউট’ শীর্ষক এই পিটিশনে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে মোট ২,৩৩,১৬,১০৮টি ডিজিটাল স্বাক্ষর জমা পড়ে।

পিটিশনটির প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা, যা বহু আগেই অতিক্রম করে যায়। টুর্নামেন্টজুড়ে রেফারিদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে এই পিটিশনটি চালু করা হয়েছিল। পিটিশনের মূল বক্তব্য ছিল, ‘বিজয়ী কে হবে তা যদি আগেই জানা থাকে, তবে বাকি দলগুলো কেন টুর্নামেন্টে খেলবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন এবং সবাইকে সমান ও সুষ্ঠু সুযোগ দিন।’ ফাইনালে আর্জেন্টিনার ১-০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর পিটিশনের উদ্যোক্তারা বার্তা দিয়ে অভিযান শেষ ঘোষণা করেন। তারা লেখেন, ‘ফিফা আমাদের কথা উপেক্ষা করেছে, কিন্তু স্পেন তার প্রতিশ্রুতি রেখেছে… ধন্যবাদ, স্পেন।’ 

ইতিহাসে অফিশিয়ালি সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষর পাওয়া পিটিশনের রেকর্ডটি রয়েছে ১৯৯৭ সালের ‘জুবিলি ২০০০’ আন্দোলনের নামে, যেখানে ২,৪৩,১৯,১৮১টি স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছিল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনা বিরোধী এই পিটিশনটি যদি আর দু-একদিন চালু থাকত, তবে তা পূর্বের সব বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে ফেলত। 

সূত্র: এনডিটিভি 

 

 

আয়শা/২৪ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৫:৪০

▎সর্বশেষ

ad