ব্রেকিং নিউজ
যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য : মির্জা ফখরুল শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সওয়াল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর সেনা হেফাজতে এক সপ্তাহে বিশ্বে তেলের দাম বাড়ল ১২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’ দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ

জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষায় পানির চাপ কমাতে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেইট ৬ ইঞ্চি খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৬ - ০৫:৩৫:২২ পিএম

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি : টানা বর্ষণ কিছুটা কমলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হ্রদের পানি নিরাপদ সীমার মধ্যে রাখতে এবং উজান-ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। যদিও বাঁধটির সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল, তবে উজান থেকে অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং চলমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বা উজান থেকে পানির প্রবাহ আরও বাড়লে পর্যায়ক্রমে গেটের উচ্চতা বৃদ্ধি করে আরও বেশি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে মোট ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। অর্থাৎ স্পিলওয়ে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন; এই দুই প্রক্রিয়া মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি হ্রদ থেকে নিষ্কাশিত হচ্ছে। স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়ার পর কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা, জেলে, নৌযান চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনে অবস্থান না করা এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের প্রথম ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে কর্ণফুলী নদীর ওপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৫৬ সালে এবং ১৯৬২ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। বাঁধটির পাশে ৭৪৫ ফুট দীর্ঘ স্পিলওয়েতে ১৬টি জলকপাট রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। শুরুতে দুটি ইউনিটে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

আয়শা/১৮ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৫:৩০

▎সর্বশেষ

ad