ব্রেকিং নিউজ
রাজধানীতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আভাস দীর্ঘদিন ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের, নতুন জ্বালানি সংকটের শঙ্কা বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ বিএনপি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না : মির্জা ফখরুল সুখী-সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বন্যার পানি নামতেই সামনে এলো ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালু জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির নতুন কৌশলে কোন পথে যাচ্ছে যুদ্ধ?

১২ বছর পর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে জেনিফার উইঙ্গেট

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ - ০৫:২২:৫০ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল। খবর আলজাজিরার।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফাতিহ বিরল বলেন, খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা এখনো একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমি নিজেও চরম উদ্বিগ্ন হব।’

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মাত্রা বৃদ্ধির পরই বিরলের এই মন্তব্য এলো। যুক্তরাষ্ট্র টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের বন্দর আব্বাস, আহভাজ ও ইরানশহরে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় আরোপিত নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে একটি জাহাজেও গুলি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

জবাবে তেহরান এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মিত্রদের ওপর পালটা হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। কাতারেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এক মাস আগে পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটিকেও (এমওইউ) ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের উপকূলীয় শহরগুলোতে মার্কিন হামলায় ক্রমেই দুটি সেতুসহ নানা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সমঝোতা স্মারকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির অভাবের কথা উল্লেখ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।

ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর-ই খামির সেতুতে মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতে দাঁড়িয়েছে। জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবুলফজল শেকারচি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ না করার এবং এই অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি যুদ্ধের আগের অবস্থায় আর ফিরে যাবে না। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্বের আওতাধীন। এর কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কোনো বাইরের পক্ষের নেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তো নেই-ই।’

আল জাজিরার রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে তাদের ষষ্ঠ রাতের হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের পর পাঁচটি নৌযান ‘অবরোধ ভাঙার’ চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে তিনটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটিকে ‘অকেজো’ করা হয়েছে, যদিও সামরিক বাহিনী কীভাবে সেটিকে অকেজো করেছে তা সেন্টকম ব্যাখ্যা করেনি। মার্কিন নৌ সেনারা একটি তেলের ট্যাংকারেও উঠেছিল, তবে নৌযানটি এখনো মার্কিন হেফাজতে রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইরান নিজের ধ্বংস নিজেই ডেকে এনেছে। লেভিট বলেন, ‘সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কারণ হলো ইরান আমাদের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে।

বিশেষ করে, যে সমঝোতা স্মারক তারা স্বাক্ষর করেছিল, তাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে গুলি না চালানোর কথা স্পষ্টভাবে বলা ছিল।’তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, এই যুদ্ধ শেষ করার একটি কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৭ জুলাই ২০২৬,/বিকাল ৫:১৫

▎সর্বশেষ

ad