ব্রেকিং নিউজ
আইজিপির বক্তব্যকে সময়োপযোগী ও সঠিক বলল পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি’র বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে মাঝ আকাশে দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ফিলিপিন্সের ৪ পাইলট নিহত প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে মিথ্যাচার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী গাজীপুরে পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কৃতজ্ঞতা হুমকিতে ব্যাংক-সরকারি পোর্টালে সাইবার হামলার আশংকা, উচ্চ সতর্কতা জারি প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে জাপানে থাকবেন না রাষ্ট্রদূত

‘নিজ ভাইকে’ বিয়ের অভিযোগ, তদন্তের মুখে ইলহান ওমর

Ayesha Siddika | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ - ০২:২৫:৫৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগে নতুন করে তদন্তের তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তে তাদের মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। তবে পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলাটি এগোয়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেন ইলহান ওমর। তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, এলমি তার ভাই এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় এলমি ছিলেন যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

২০১৬ সালের গ্রীষ্মে এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ওমর ও এলমির মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়— এমন তথ্য পেয়েছিলেন। তবে তাদের হাতে ঠিক কী ধরনের প্রমাণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এলমি শর্তসাপেক্ষে দুই বছরের গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট দুই সাবেক কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পেতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নথি চাইলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যান এবং আবেদন প্রত্যাহার করেন।

তবে ২০০৯ সালে বিয়ের পর ২০১৪ সালের মধ্যেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন প্রসিকিউটররা। পাঁচ বছরের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তদন্তটি আর এগোয়নি। ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের সময় মিনেসোটার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত বন্ধ করে দেয়।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন ইলহান ওমর। তার দাবি, ভাইকে বিয়ে করে গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। গত সপ্তাহে এমএস নাউয়ের উপস্থাপক ক্রিস হেইস তাকে সরাসরি এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওমর বলেন, ‘আমার জানা মতে, এমনটা নয়।’

এদিকে ওমরের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০২ সালে আহমেদ হিরসির সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ে হয় তার। ২০০৯ সালে এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। এর এক বছর পর হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন ওমর। পরে ২০১৯ সালে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। ২০২০ সালে রাজনৈতিক পরামর্শক টিম মাইনেটকে বিয়ে করেন তিনি।

সম্প্রতি ইলহান ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়েও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মুঠোফোন, নোটবুক, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও পাসপোর্ট জব্দ করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ওমর ভুল নাম বা জন্মতারিখ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তার বাবার আইনগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু নথিতে ওমরের জন্মতারিখ ১৯৮১ সালের ৪ অক্টোবর, আবার অন্য নথিতে ১৯৮২ সালের একই তারিখ উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

 

 

আয়শা/৩১ অক্টোবর ২০২৬,/দুপুর ২:২৪

▎সর্বশেষ

ad