রূপপুরে সফলভাবে পরমাণু বিক্রিয়া সম্পন্ন

Anima Rakhi | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ - ০৬:৫৯:৪৭ পিএম

ডেস্ক নিউজ : বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ রবিবার বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত চেইন রিয়্যাকশনের বা পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির রিয়্যাক্টর প্রাথমিক ‌‌’ক্রিটিক্যালিটি’ (সংবেদনশীল) পর্যায়ে প্রবেশ করল।

চূড়ান্তভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে চারটি প্রধান ধাপ অতিক্রম করতে হয়, এটি তার প্রথম। পারমাণবিক বিক্রিয়া বা চেইন রিয়্যাকশনের মাধ্যমে রিয়্যাক্টর কোরের ভেতরে ইউরেনিয়াম পরমাণু বিভক্ত হয়ে পারমাণবিক শক্তি তীব্র তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তী ধাপগুলোতে এই তাপ শক্তি স্থানান্তর, যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর এবং সর্বশেষ ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‌’প্রয়োজনীয় সব কমপ্লায়েন্স নির্দেশিকা, কারিগরি প্যারামিটার ও বাহ্যিক সনদপত্র যাচাইয়ের পর এই প্রক্রিয়াটি শুরু করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে আমরা সফলভাবে চেইন রিয়্যাকশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। সমস্ত প্যারামিটার কাঙ্ক্ষিত সীমার মধ্যেই ছিল এবং রিয়্যাক্টরটি যথেষ্ট স্থিতিশীল ছিল।’

গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এর আগে ইউনিটটির স্বয়ংক্রিয় চাপ নিয়ন্ত্রণকারী নিরাপত্তা ভালভে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই ধাপের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যার সমাধান হয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে আরও দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন লাগবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে শক্তি বাড়ানোর কাজ চলবে।

প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাবে, সব পরীক্ষা পরিকল্পনামতো এগোলে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হতে পারে।

চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। 

কিউটিভি/অনিমা/১১ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫৭

▎সর্বশেষ

ad