মশিউর রহমান, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে শ্রমিক কলোনির ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি ও সারা জীবনের জমানো সম্বল। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। এক রাতের আগুনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর লাল পাহাড় এলাকার মহসিনের ভাড়া বাড়িতে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ বাড়ির একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য কক্ষে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন ভাড়াটিয়ারা। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হন বাড়ির মালিক মহসিন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, গার্মেন্টসে কাজ করে দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও সঞ্চয় গড়ে তুলেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারও ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, কারও নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও পোশাক কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সব হারিয়ে এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় থাকবেন, কীভাবে নতুন করে সংসার শুরু করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

বাড়ির মালিক মহসিনের দাবি, আগুনে তার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা। মহসিনের অভিযোগ, খবর দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে আগুন পুরো বাড়ির ৩২টি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ১৩টি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে দাবী তার।
ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী জানান, বুধবার দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ভোর ৪টা ১৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।এদিকে আগুনে সব হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছুটা সুযোগ পাবেন তারা।
আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৮:৩০
