‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি, নীরব সম্মানে বিশেষ বার্তা ফারুক ও ওমরের

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:৫২:১৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ভিন্ন ছবি দেখা গেল জম্মু ও কাশ্মীরে। শ্রীনগর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় স্তোত্রের পুরোটা বাজানোর সময় দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং তার বাবা, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা।

তারা গানে কণ্ঠ না মেলালেও পুরো গান চলাকালীন দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত কংগ্রেসের সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্সের জোটের কারণে। জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্স একই বিরোধী জোটের অংশ। অথচ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে দুই শরিকের অবস্থানে যে ফারাক রয়েছে, শ্রীনগরের অনুষ্ঠানটি তারই ইঙ্গিত দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠানে প্রায় তিন মিনিট ১০ সেকেন্ডের পূর্ণ সংস্করণ বাজানো হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ওমর ও ফারুক পুরো সময় দাঁড়িয়ে গানটির প্রতি সম্মান জানান।এর আগে স্বাধীনতা দিবসে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া একটি দৃশ্যে দেখা যায়, গান পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধীকে কিছু ইঙ্গিত করতে।

বিজেপির অভিযোগ, তিনি গান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও ওই দৃশ্যের ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগটি খারিজ করা হয়েছে। এদিকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানও এই বিতর্কের কেন্দ্রে। কংগ্রেসের বক্তব্য, স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক রীতি অনুযায়ী গানটির প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হয়ে আসছে। পুরো ছয় স্তবক গাওয়ার পরিবর্তে সেই প্রচলিত রীতিই বজায় রাখার পক্ষে তারা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার গানটির পূর্ণ সংস্করণ পরিবেশনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় স্তোত্রের পূর্ণ সংস্করণ নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক শরিকদের অবস্থান কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের দুই শীর্ষ নেতা পুরো গান চলাকালীন দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে অবশ্য সরাসরি কংগ্রেসের অবস্থানের সমালোচনা করেননি। তারা গানটিতে কণ্ঠও মেলাননি। কিন্তু গান বন্ধ করার উদ্যোগও নেননি। ফলে তাদের এই আচরণকে কংগ্রেসের অবস্থানের সঙ্গে একটি নীরব দূরত্ব হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। জাতীয় স্তোত্রকে ঘিরে এই বিতর্কে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী জোটের শরিকদের মধ্যেই যদি অবস্থানের ফারাক প্রকাশ্যে আসে, তাহলে বিষয়টি আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

 

 

আয়শা/০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫০

▎সর্বশেষ

ad