‘আঙুর ফল না পেলে টক লাগে’, সুনিধিকে নেহা, বাড়ছে চর্চা

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:২৩:৫৩ পিএম

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের সংগীতজগতের দুই জনপ্রিয় নাম সুনিধি চৌহান ও নেহা কক্কর। দুজনের ক্যারিয়ারের শুরু ভিন্ন সময়ে হলেও নিজেদের স্বতন্ত্র গায়কী দিয়ে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। এবার সংগীত নয়, রিয়েলিটি শোকে কেন্দ্র করে পরস্পরের বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে দুই গায়িকার মধ্যে।

নব্বইয়ের দশকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন সুনিধি চৌহান। দীর্ঘদিন ধরে গান ও রিয়েলিটি শোর সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পী সম্প্রতি এক পডকাস্টে রিয়েলিটি শোগুলোর নেপথ্যের নানা বিষয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। যদিও সরাসরি কারও নাম নেননি তিনি, তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয় আলোচনা।

সুনিধি বলেন, ‘বর্তমানে রিয়েলিটি শোগুলো সব স্ক্রিপ্টেড। আগে থেকেই সব সাজানো থাকে। এখন আর আগের মতো বাস্তবসম্মত বিষয় দেখা যায় না। বরং প্রাধান্য পায় অতিনাটকীয়তা। যেমন টিআরপির জন্য দর্শকের আবেগ নিয়ে খেলা কিংবা আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনো প্রতিযোগীকে তোল্লাই দেওয়ার নির্দেশ দেন নির্মাতারা।’
শুধু তাই নয়, রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী ও বিচারকদের পারফরম্যান্সেও কারসাজির অভিযোগ তোলেন সুনিধি। তাঁর কথায়, ‘এখনকার রিয়েলিটি শোয়ে প্রতিযোগী ও বিচারকদের পারফরম্যান্সে অবাধে অটোটিউন ব্যবহার করা হয়। সেকারণেই আমি আর রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে থাকি না।’
সুনিধির এমন মন্তব্যে অনেকেই সহমত পোষণ করেন। তবে এবার সেই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন নেহা কক্কর। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গানের রিয়েলিটি শোর সঙ্গে যুক্ত নেহা। একাধিক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিচারকের আসনে তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ও নাটকীয় আচরণ নিয়ে অবশ্য কম আলোচনা হয়নি। এমনকি সমালোচকেরা তাঁকে ‘হাইভোল্টেজ ড্রামা ক্যুইন’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নেহাকে প্রশ্ন করা হয়, রিয়েলিটি শোগুলো কি সত্যিই সব সাজানো? জবাবে তিনি জানান, এসব অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের আবেগ, জীবনসংগ্রাম ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার যে গল্প উঠে আসে, সেগুলো পুরোপুরি চিত্রনাট্য অনুযায়ী তৈরি করা সম্ভব নয়।

নেহার কথায়, ‘আমরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন প্রান্তের ছোট শহর থেকে উঠে এসেছি এবং অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখানে পৌঁছাতে পেরেছি। প্রতিযোগীরা নতুন করে কোনো গল্প বানিয়ে বলবে না। আর অনুষ্ঠানে আমরা সেটাই দেখতে পাই। কারও গল্প শুনে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে সেই অনুভূতিটা তো স্বাভাবিক।’

রিয়েলিটি শোর টিআরপি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান নেহা। তাঁর দাবি, তিনি যতদিন বিচারকের আসনে ছিলেন, ততদিন অনুষ্ঠানের টিআরপি ভালোই ছিল। পরই সুনিধিকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষের সুরে নেহা বলেন, ‘আমি যতদিন শোয়ের বিচারকের আসনে বসেছি, ততদিন টিআরপি ভালোই ছিল। আসলে আঙুর ফল না পেলে টক-ই লাগে।’নেহার এই মন্তব্য যে সুনিধি চৌহানের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরই পাল্টা জবাব, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

 

 

আয়শা/০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:২২

▎সর্বশেষ

ad