আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের চারজন সহযোগীকে বড় অঙ্কের ছুটির উপহার দিয়েছেন। ওই চারজনের তিনজনই নারী। মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশ করা নতুন আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নথির বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, নির্বাহী সহকারী নাটালি হার্প, যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন এবং ওভাল অফিসের কার্যক্রমের উপপরিচালক চেম্বারলেন হ্যারিসকে প্রত্যেককে ৪৫ হাজার ডলার করে উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া ওভাল অফিসের কার্যক্রমের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে দেওয়া হয়েছে ২০ হাজার ডলার।
গত সপ্তাহে প্রশাসন ওই কর্মকর্তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রকাশনা ফর্ম প্রকাশ করে। সেখানেই এসব উপহারের তথ্য উল্লেখ করা হয়। হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসে দেওয়া বেতনসংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হার্প, মার্টিন ও হ্যারিসের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার করে। আর নাউটার বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের একটি রীতি হলো তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বড়দিনের উপহার দেওয়া। সরকারি দায়িত্বে থাকার সময় এবং বেসরকারি খাতের জীবনেও তিনি মাঝে মাঝে কর্মী ও সহযোগীদের এমন উপহার দিয়ে থাকেন।
তবে ট্রাম্প অন্য কোনো কর্মকর্তাকে একই ধরনের উপহার দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি। তিনি বলেন, নগদ অর্থের এসব উপহার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরসরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে সংশ্লিষ্ট আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ।
মঙ্গলবার প্রথম এসব উপহারের তথ্য প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
কে এই নাটালি হার্প?
নাটালি হার্পকে ট্রাম্পের পাশে প্রায়ই দেখা যায়। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে থাকার সময় একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার সঙ্গে রাখেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের জন্য অনুকূল সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেন।
ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিনে পড়ার চেয়ে কাগজে পড়তে বেশি পছন্দ করেন। মার্গো মার্টিন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই তার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের কাছে ট্রাম্প পরাজিত হওয়ার পর তিনি ট্রাম্পকে অনুসরণ করে ফ্লোরিডার পাম বিচে যান এবং তার মিডিয়া কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর তিনি আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প চেম্বারলেন হ্যারিসকে ইউএস কমিশন অব ফাইন আর্টসের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। এই কমিশনের আওতায় প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত হোয়াইট হাউসের বলরুম প্রকল্পের ওপরও নজরদারি রয়েছে। ওয়াল্ট নাউটা আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভ্যালেট হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ শেষে হোয়াইট হাউস থেকে সঙ্গে করে নেওয়া গোপন নথি নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নাউটা এবং মার-এ-লাগোর সম্পত্তি ব্যবস্থাপক কার্লোস ডি অলিভেইরার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথভাবে মামলা করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে এসব অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়।
আয়শা/০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:১২
