ব্রেকিং নিউজ
দর্শনই মানুষকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করে হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়তে মরিয়া আলোচিত এসপি হুমায়ুন ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা চালকের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল আটকের সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সদস্যের বার্তা—‘মোদিকে হটাও’ পোশাক শিল্পের বিকাশে যা প্রয়োজন, সরকার তাই করবে : প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ইসরায়েলে হামলা, হিজবুল্লাহকে প্রস্তুত থাকতে বললো ইরান যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানে যে একটি ভুল করেননি ট্রাম্প

Ayesha Siddika | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ - ০১:১৪:২৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ খুঁজে না পেলে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি অন্তত একটি বড় ভুল এড়িয়েছেন—যুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাননি, যা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইতিহাসে দেখা গেছে ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিজেদের মর্যাদা রক্ষা বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজতে গিয়ে সংঘাত আরও বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলেছিল। বর্তমানে ট্রাম্পও একই ধরনের এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ইরান আত্মসমর্পণ বা যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে আলোচনায় রাজি না হওয়ায় তার সামনে তিনটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে।

প্রথমত, বর্তমানের মতো বিমান হামলা, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পাল্টাপাল্টি সামুদ্রিক অবরোধ চালিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মেনে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, হামলা আরও জোরদার করে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা বা সীমিত পরিসরে স্থলবাহিনী মোতায়েন করা। আর তৃতীয় পথ হলো, বড় লক্ষ্য অর্জন না করেই যুদ্ধ থেকে সরে আসা। বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি পথই রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে পড়েছেন, যেখানে জয় কিংবা পরাজয়—দুটিরই মূল্য অনেক বেশি।

সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে নতুন ও ব্যতিক্রমী কৌশলের খোঁজে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে নতুন ধারণা চেয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছে। এটিও ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান কৌশল নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরেও পুনর্বিবেচনা চলছে। এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বলে সপ্তাহান্তে বড় ধরনের হামলা স্থগিত করার পর সোমবার আবারও কঠোর অবস্থান নেন ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করেন। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ভালো একটি চুক্তিতে সই করার জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ।”তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, তা না হলে ইরানকে ‘নেতৃত্বশূন্য’ বা ‘ডিক্যাপিটেশন’-এর মুখোমুখি হতে হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি আবারও সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে, তাহলে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প আরও সীমিত হয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অন্যান্য অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হলে তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাতে পারে। এতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়বে। বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নৌবাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়বে। একইভাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ বা অন্যান্য এলাকায় স্থল অভিযান চালানো হলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন (বামে) ও জর্জ ডব্লিউ. বুশ। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের ভিয়েতনাম যুদ্ধ, জর্জ ডব্লিউ. বুশের ইরাক অভিযান এবং বারাক ওবামার আফগানিস্তানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের উদাহরণ তুলে ধরে সিএনএন বলেছে, বিমান হামলা থেকে স্থলযুদ্ধে রূপ নেওয়ার পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য অনেক বেড়েছে।

বিদেশের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করেই ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা এমন যুদ্ধ চাই না, যার কোনো শেষ নেই এবং যা আমরা কখনো জিততে পারি না।’তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনিও আফগানিস্তানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে সেই সিদ্ধান্তকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন এবং এর দায় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর চাপান।

বিশ্লেষকদের মতে, এখন ইরান যুদ্ধ আর কোনো পূর্বসূরির নয়, এটি সম্পূর্ণ ট্রাম্পের নিজের যুদ্ধ। এর পরিণতিই নির্ধারণ করতে পারে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং হোয়াইট হাউসের বাইরে আরও বহু মানুষের ভবিষ্যৎ।

 

 

আয়শা/০৪ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১:১২

▎সর্বশেষ

ad