স্পোর্টস ডেস্ক : ভারত-ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচের ঘোষণা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আনন্দের খবর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ঘোষণা উল্টো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া এ হাইপ্রোফাইল ম্যাচের সময় এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাইচুং ভুটিয়া বলেন, ‘ব্রাজিল ম্যাচের সময়টাই আমার কাছে সমস্যার।’ তিনি জানান, একই সময়ে ভারত ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে। তিনি বলেন, ‘ফিফা আসিয়ান কাপ ওই সময়েই হবে, আর আমরা জানি না জাতীয় দল কেমন গঠন হবে।’
তার এ উদ্বেগ ফেলে দেওয়ার মতো নয়। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারত আসিয়ান কাপের গ্রুপে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে পড়েছে। এ টুর্নামেন্টে শুধু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দলই পরের ধাপে যাবে। যোগ্যতা অর্জনের লড়াই এমনিতেই কঠিন। এমন সময়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচের দিকে মনোযোগ সরানো নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন উঠছে। বাইচুং ভুটিয়ার সমালোচনা শুধু সময়সূচি নিয়ে নয়। তার কাছে ব্রাজিল ম্যাচ যেন ভারতীয় ফুটবলের মূল সমস্যাগুলো সমাধান না করতে পারার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবছিলাম ব্রাজিলের বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচের উদ্দেশ্য কী। ভারতীয় ফুটবল কি এখান থেকে কিছু লাভ করবে?’
এই প্রশ্নটাই আসল বিতর্কের কেন্দ্রে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ উত্তেজনা তৈরি করবে, টিভি দর্শক বাড়াবে এবং বাণিজ্যিক আগ্রহও তৈরি করবে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু একটি সন্ধ্যায় বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে খেলা কি বছরের পর বছর ধরে চলা কাঠামোগত অবনতির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে? সাবেক অধিনায়কের মতে এটা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘টাটার মতো একটি বড় করপোরেট গ্রুপ জামশেদপুর এফসি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এটাই দেখায় ভারতীয় ফুটবলের প্রকৃত অবস্থা।’জামশেদপুর এফসি নিয়ে অনিশ্চয়তা ভারতীয় ফুটবলের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যে সময়ে ক্লাবগুলো সংগ্রাম করছে, উন্নয়নের পথ দুর্বল হয়ে আছে এবং বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, সেই সময়ে একটি বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাটির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হচ্ছে। বাইচুং ভুটিয়া ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অবস্থার আরও করুণ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের এখন উচিত নিজের ঘর গোছানো। সিনিয়র দলের কথা বাদই দিলাম, অনূর্ধ্ব-১৭ দলও মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় লিগ এলোমেলো অবস্থায় আছে, জুনিয়র প্রোগ্রামের কোনো দিশা নেই এবং তৃণমূল ফুটবল উন্নয়নের জন্য কোনো টাকা নেই।’
‘আমার মতে এই মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়া উচিত দেশের ফুটবলের পুননির্মাণে। কিন্তু তা হচ্ছে না! এখন এই ম্যাচ মানে একটা পরিবার যারা নিজেদের খাবারের যোগাড়টা করতে পারছে না ঠিকঠাক, তাদের ছেলের বিয়েতে শাহরুখ খানকে এনে নাচানোর মতো বিষয়।’তার এই মতামতকে সমর্থন করেছেন খেলোয়াড়রাও। ভারতীয় ফুলব্যাক নিখিল পূজারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, একদিকে ব্রাজিলের সফর নিয়ে উদযাপন চলছে, আর অন্যদিকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আরেকটি ক্লাব বন্ধের খবর শুনতে হচ্ছে। ভারত আগেও ফুটবলের বড় বড় দলকে আতিথ্য দিয়েছে। ১৯৮০-র দশকে নেহরু কাপে উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনা খেলেছিল। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ২০১১ সালে দেশটিতে খেলে গিয়েছে। সেই ম্যাচগুলো উত্তেজনা এবং স্মৃতি তৈরি করেছিল, কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের গতিপথ বদলাতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
আয়শা/০৪ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১:০০
