স্পোর্টস ডেস্ক : শেষ ষোলোর দ্বৈরথে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে লিওনেল মেসিরা। তবে খেলা শেষে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ তুলেছে মিশর।
এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। একই সঙ্গে বিশ্বকাপজুড়ে দলের প্রতি সমর্থন জানানো মিশরীয় সমর্থকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, বিশ্বকাপজুড়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা লাখো সমর্থকের অকুণ্ঠ সমর্থন খেলোয়াড় ও দলের জন্য ছিল বড় অনুপ্রেরণা। জাতীয় দল সম্মান, সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে খেলেছে এবং মাঠে মিশরের চেতনা ও পরিচয় তুলে ধরেছে।

একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবহারে ব্যর্থতার বিষয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নীরব থাকতে পারে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে। বলা হচ্ছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং এমন সব সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছে, যা সরাসরি ম্যাচের গতিপথকে প্রভাবিত করেছিল।
ইএফএর দাবি, দেশি-বিদেশি অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকও ম্যাচে কয়েকটি বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনায় সর্বোচ্চ মানের সততা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মিশর ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা সবসময় ফেয়ার প্লে, ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা ও ফুটবলের প্রতি শ্রদ্ধার নীতিতে বিশ্বাসী। সেই নীতিই দাবি করে, প্রতিটি দল সমান সুযোগ ও সমান আচরণ পাবে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে যা ঘটেছে, তা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় দলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার বিষয় নয়। এটি তাদের দায়িত্ব। মিশরের জার্সি গায়ে মাঠে নামা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং দলের পাশে থাকা প্রতিটি সমর্থক ন্যায্যতা, সম্মান এবং ফুটবলের আইন সমানভাবে প্রয়োগের দাবি রাখেন। দলের প্রতি গর্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে ফেডারেশন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিতর্ক সত্ত্বেও ম্যাচের ফল এখন এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেও, দলের প্রতি আমাদের গর্ব অটুট রয়েছে।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও লড়াকু মানসিকতা সবার শ্রদ্ধা অর্জন করেছে এবং মিশরীয় ফুটবলের প্রকৃত মূল্যবোধকে তুলে ধরেছে। সবশেষে সমর্থকদের উদ্দেশে ইএফএ জানায়, ‘জাতীয় দলের হৃদয় ও শক্তি হয়ে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থনই আমাদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে মিশরীয় ফুটবলের জন্য আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।’
আয়শা/০৮ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:৪৪
