ব্রেকিং নিউজ
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপল ভারত-পাকিস্তানও এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষমতা হারানোর চরম ঝুঁকিতে নেতানিয়াহু হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়ালো ৯৮ হাজার চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক: মির্জা ফখরুল প্রাথমিকের ১৪ হাজার নতুন শিক্ষকের যোগদান-পদায়নে সুখবর বাংলাদেশকে ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, নিন্দা দেশটির বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বাড়ল তেলের দাম

Anima Rakhi | আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ - ০৪:৩০:২৮ পিএম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সোমবার জ্বালানি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী রাত ৩টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট) আগস্ট মাসের জন্য ব্রেন্ট ফিউচারের দাম দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৭৩ দশমিক ২১ ডলারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার আগের তুলনায় এই দাম ১ দশমিক ২৭ ডলার বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ বলেন, “যুদ্ধবিরতির আশাবাদে বাজার হয়তো কিছুটা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। এখনকার দাম বৃদ্ধি সেই অতিরিক্ত আশাবাদের সংশোধন।”

তিনি বলেন, “যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি প্রায় পুরোপুরি কমে গিয়েছিল, যদিও সমঝোতা স্মারকে বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিষয় স্পষ্ট ছিল না এবং হামলাও চলছিল। বৃহস্পতিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ছিল বড় সতর্কবার্তা। আর সপ্তাহান্তের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।”

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। শান্তিপূর্ণ সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। এর কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

তবে রবিবার রাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান হামলা বন্ধ করে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
তবে ইরান এখনও কথিত যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
তেলের বাজারে অস্থিরতার পাশাপাশি সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। টোকিও ও সিউলের বাজারে দরপতন হলেও হংকং ও তাইপের বাজারে সূচক বেড়েছে।

জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ কমেছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠেছে, এআই খাতের বিপুল বিনিয়োগ ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না।

জাপানের প্রযুক্তি জায়ান্ট সফটব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষার সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডভানটেস্টের শেয়ার কমেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ৫ শতাংশ ও ৪ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ বলেন, “ত্রৈমাসিক শেষে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ায় বিক্রির চাপ বাড়ছে। চলতি বছর কসপি সূচক প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং নিক্কেই প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মূল উদ্বেগ হলো- এআই খাতের উত্থান দীর্ঘমেয়াদে আয় বৃদ্ধিতে কতটা রূপান্তরিত হবে, নাকি প্রত্যাশার আগেই মুনাফার চাপ তৈরি হচ্ছে।”

যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৭ জুন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। তবে এরপরও হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতা বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

কিউটিভি/অনিমা/২৯ জুন ২০২৬,/বিকাল ৩:২৯
▎সর্বশেষ

ad