ডেস্কনিউজঃ পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় কোরবানি দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পশুর লাথি, শিংয়ের আঘাত এবং মাংস কাটার ধারালো অস্ত্রের ছোঁয়ায় জখম হয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে ঢামেক পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আহতদের চিকিৎসায় জরুরি বিভাগ সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে অনেকেই গরুর আকস্মিক লাথি ও শিংয়ের গুঁতোয় গুরুতর আঘাত পান। আবার অনেকে কসাইয়ের কাজ করতে গিয়ে কিংবা মাংস কাটার সময় নিজের হাতের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধারালো ছুরি-চাপাতির আঘাতে জখম হন।
আহতদের মধ্যে সব বয়সী মানুষ রয়েছেন। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— ফারুক (৫০), আনিছ (৩০), হারুন (৪০), জাহিদ (৪২), জুয়েল (৩৮), রাহাত (২৩), করিম সিকদার (৪২), আবু কালাম (৪৭), হাফিজুর রহমান (২০), ইব্রাহিম (২৫), সাদ্দাম (৩০), রাব্বি (২২), সেলিম (৪৩) ও মিজানুর রহমান (৬০)।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, দুপুরের পর থেকেই জরুরি বিভাগে আহতদের আসার মিছিল বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নেওয়া ৮০ জনের মধ্যে সিংহভাগই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে আঘাতের গভীরতা বিবেচনা করে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং শারীরিক অবস্থা বুঝে কয়েকজনকে ওয়ার্ডে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ঈদের দিন বিকেল গড়ানোর সাথে সাথে মাংস কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসায় নতুন রোগীর চাপ কমছে, তবে এই সংখ্যাটি আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকেরা কোরবানি সংশ্লিষ্ট কাজে সবাইকে আরও বেশি ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
বিপুল/২৮.০৫.২০২৬/রাত ৮.৫৪
