
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা থেকে বেসরকারি মালিকানায় যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া। ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থ বছরে সংস্থাটি প্রায় ২২০ বিলিয়ন রুপির (৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বড় লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। এই বিপর্যয় সামাল দিতে সংস্থাটি এখন তাদের প্রধান অংশীদার টাটা গ্রুপ এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের কাছে জরুরি অর্থ সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ২৫.১ শতাংশ শেয়ারের মালিক সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং বাকি অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে টাটা গ্রুপের হাতে। সূত্র মারফত জানা গেছে, উভয় পক্ষই এখন বিমানে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করছে, যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের পুরোটা পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
গেল অর্থবছরে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার এই পতনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, এই ঘটনায় সংস্থাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। এর পাশাপাশি মে মাসে পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকার ফ্লাইটে খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিও এয়ার ইন্ডিয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, কারণ তাদের মোট সক্ষমতার ১৬ শতাংশই ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বিভিন্ন শুল্ক ও ভিসা নীতিও সংস্থার আয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই চরম অস্থিরতার মধ্যেই সংস্থার প্রধান নির্বাহী ক্যাম্পবেল উইলসন ২০২৬ সালে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি এভিয়েশন রেগুলেটরের বার্ষিক অডিটে নিরাপত্তার দিক থেকেও এয়ার ইন্ডিয়া সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরনের তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের অন্যতম শর্ত ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসান কমানো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সও এই লোকসানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভারতের এভিয়েশন শিল্পে গভীর দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: স্ট্রেইটসটাইম
অনিমা/১৬ এপ্রিল ২০২৬,/সকাল ১১:৫১






