পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি কী

Anima Rakhi | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ - ১১:৪৮:০৪ পিএম

ডেস্ক নিউজ : আমরা কত শত ভুল করি, কত ধরনের পাপের সাগরে ডুব দিই! এরপর যখন দেখি আমাদের আয়-উন্নতি ঠিকঠাক চলছে, অসুখবিসুখ হচ্ছে না, তখন বুক ফুলিয়ে বলি-‘কই? আল্লাহ তো আমাদের কোনো শাস্তি দিচ্ছেন না! আমরা তো বেশ ভালোই আছি।’

​ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’-এ এক অমোঘ সত্য লিখে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বান্দার জন্য অন্তরের কঠোরতা বা হৃদয় পাথর হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হতে পারে না।’

​আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার রিজিক ঠিক আছে মানেই আপনি নিরাপদ। হয়তো অবজ্ঞার সুরে বলছেন-শাস্তিটা কোথায়?

তাহলে শুনুন, আপনার বর্তমান অবস্থাটাই তো একটা ভয়াবহ শাস্তি! ​আপনার পাশ দিয়ে জানাজার খাটিয়া চলে যায়, অথচ আপনার ভেতরের মানুষটা একটুও নড়েচড়ে বসে না। আপনার একটা পশমও শিউরে ওঠে না।

​আপনার কানে কোরআন তিলাওয়াতের সুর আসে, কিন্তু সেই সুর এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আপনার কলিজায় কি কোনো কম্পন সৃষ্টি হয়? ​আপনার নামাজগুলো একের পর এক কাজা হয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনার শরীরের প্রতিটি কোষ যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে উঠছে না।

আপনি দিব্যি স্বাভাবিক আছেন! ​আপনি যখন বিপদগ্রস্ত মানুষদের দেখেন, তখনও কি আপনার নিজের সুস্থতা ও নিয়ামত নিয়ে একবারও আত্মতৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতায় চোখ ভিজে উঠছে?

​ভাই আমার, আপনি কি এখনো জিজ্ঞাস করবেন-‘শাস্তি কোথায়?’ আপনার জ্যান্ত কলিজাটা যখন আজ পাথর হয়ে গেছে, তখন এর চেয়ে বড় আজাব আর কী হতে পারে?

​নিজেকে একটু সময় দিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মৃতপ্রায় হৃদয়টাকে প্রশ্ন করুন। ফেরার সময় কি এখনো হয়নি?

​মূল বার্তা : পাপের সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো ইবাদতে স্বাদ না পাওয়া এবং গুনাহ করার পরও মনে অনুশোচনা না আসা। রিজিক বা দুনিয়াবি সুখ থাকা মানেই আল্লাহ সন্তুষ্ট-এমন ভাবাটা এক ধরনের বিভ্রম।

অনিমা/১৫ এপ্রিল ২০২৬,/রাত ১১:৪৯

▎সর্বশেষ

ad