নবীজির হাসিই ছিল ঘরের প্রশান্তি

Ayesha Siddika | আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৫ - ০৬:৪৪:৫২ পিএম

ডেস্ক নিউজ : মুফতি আবদুল্লাহ তামিম

কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর আচরণ করো (সুরা আন-নিসা ৪:১৯)। এই আয়াতের পূর্ণতা আমরা নবীজির জীবনে দেখতে পাই। তিনি স্ত্রীদের সাথে কখনো কঠোর হননি, বরং ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল, হৃদয়বান এবং শ্রদ্ধাশীল।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলে সব সময় হাসিমুখে প্রবেশ করতেন (মুসলিম: ২৪৫০)। তিনি তার পরিবারকে কখনো বোঝা মনে করতেন না। বরং পারিবারিক পরিবেশকে শান্তিময় রাখতে নিজেই হাসিমুখে থাকতেন।

হাদিসে এসেছে, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করে। আর আমি আমার স্ত্রীদের সঙ্গে সবচেয়ে উত্তম আচরণ করি (তিরমিযি: ৩৮৯৫)। তিনি স্ত্রীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতেন, গল্প করতেন, হাস্যরস করতেন। একবার আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতাও করেন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই ছিল তাঁদের ভালোবাসা ও প্রশান্তির উৎস।

হজরত আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা আরও বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কাপড় সেলাই করতেন, জুতা সেলাই করতেন এবং ঘরের কাজকর্মে সাহায্য করতেন (বুখারি: ৫৭৬৩)। এই বিনয় ও সহানুভূতিই তাঁর পরিবারে হাসিমুখ ও শান্তির আবহ সৃষ্টি করত।

নবীজির হাসিমুখ ছিল তার ঘরের রুহানিয়াতের মূল উৎস। তিনি রাগ বা অনুযোগের বদলে ভালোবাসা, ক্ষমা ও হাসিমুখ দিয়ে পারিবারিক সম্পর্ক মজবুত করতেন। আধুনিক যুগে আমরা যেখানে পরিবারে হঠাৎ রেগে যাই, সেখানে নবীজির জীবনের এই দৃষ্টান্ত আমাদের শিখিয়ে দেয় সুখী পরিবার গড়ে ওঠে হাসিমুখ আর সহনশীলতায়।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাসি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং ছিল পারিবারিক প্রশান্তির প্রতীক। আজকের সমাজে যদি আমরা তার জীবনের এই দিকগুলো অনুসরণ করি, তবে আমাদের পরিবারও হতে পারে ভালোবাসার উদ্যান, শান্তির আশ্রয়স্থল।

 

 

আয়শা//১৫ জুলাই ২০২৫,/সন্ধ্যা ৬:৪০

▎সর্বশেষ

ad