সাহিত্যিকদের শিক্ষিকা : মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব (রহ.) পেশায় ছিলেন শিক্ষিকা। অভিজাত পরিবারের নারীদের কবিতা ও সাহিত্য শেখাতেন। ফলে সমকালীন বহু নারী কবি-সাহিত্যিকের সরাসরি শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। বলা যায়, তাঁর হাত ধরে মুসলিম স্পেনে নারীদের সাহিত্যচর্চায় একটি নতুন যুগের সূচনা হয়। মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব (রহ.)-এর শিষ্য ও ভাবশিষ্য নারী কবিদের বহু কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্ম স্পেনসহ ইউরোপের প্রাচীন পাঠাগারগুলোতে সংরক্ষিত আছে। ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রচনায়ও তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল।
ডেস্ক নিউজ : মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব আশ-শিলবি (রহ.) মুসলিম স্পেনের একজন খ্যাতিমান নারী কবি ও সাহিত্যিক। তবে তিনি তাঁর কবিতা ও সাহিত্যকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। মৃত্যুর পরেই তাঁর সাহিত্যকর্মের খ্যাতি ও সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মারিয়াম বিনতে আবি ইয়াকুব (রহ.) খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে মুসলিম স্পেনের শিলব (আধুনিক পর্তুগালের সিলভেজ) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং এখানেই তিনি বেড়ে ওঠেন।
দ্বিনদারি : সময়ের খ্যাতিমান ও প্রভাবশালী কবি হওয়ার পর মারিয়াম (রহ.) ছিলেন অত্যন্ত দ্বিনদার ও বহুবিদ গুণের অধিকারী। তিনি সুদূর আন্দালুস থেকে হজ করতে এবং রাসুলের রওজা জিয়ারত করতে মক্কা-মদিনা সফর করেন। তাঁর জীবনী রচয়িতারা তাঁর সম্পর্কে লেখেন, ‘তিনি ছিলেন হজ পালনকারী, সাহিত্যিক, কবি ও মর্যাদাসম্পন্ন নারী। তিনি আরবি সাহিত্য শেখাতেন। দ্বিনদারি ও জ্ঞানের কারণে তাকে অত্যন্ত সম্মানিতা মনে করা হতো।’
বিখ্যাত কবিতা : হিজরি চতুর্থ শতকে তাঁর একটি কবিতা প্রসিদ্ধি লাভ করে। যার মর্মার্থ হলো, ৭৭ বছর বয়সী কোনো নারীর কাছে কোনো কিছু আশা করা যায় না, যেমন আস্থা রাখা যায় না মাকড়সার পাতলা জালের ওপর। যে নারী শিশুর মতো ধীর পায়ে পাপের দিকে এগিয়ে যায় এবং তাকে হাজির করা হয় আটক বন্দির মতো। আন্দালুসের শাসক ইবনুল মুহান্নাদ তাঁর এই কবিতা শুনে খুবই মুগ্ধ হন এবং তাঁকে বহু অর্থ উপহার দেন।
কিউটিভি/আয়শা/১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/রাত ৮:৪৪
