ডেস্কনিউজঃ যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় উদযাপন করছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আরবি হিজরি সন অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত এই উৎসবটি ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও পশু কুরবানি এবং আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এবারের ঈদ কাটছে চরম সংকট ও বেদনার মধ্য দিয়ে।
কাতারের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহার এই আবহে সৌদি আরবের মক্কায় সমবেত হয়েছেন বিশ্বের ১৭ লাখেরও বেশি মুসলিম পুণ্যার্থী। পবিত্র হজ পালনের অংশ হিসেবে তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, মুজদালিফায় রাত্রিযাপন এবং মিনায় জামারাত বা শয়তানের উদ্দেশ্যে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করেছেন। এরপর হাজিরা কাবা শরিফ তাওয়াফ এবং পশু কুরবানির মাধ্যমে হজের শেষ মুহূর্তের আচার পালন করছেন।
তবে বিশ্বজুড়ে ঈদের এই আনন্দ সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছায়নি। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়, যেখানে ইসরায়েলের কয়েক মাসব্যাপী সামরিক অভিযানে পুরো জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, সেখানকার মানুষের ঈদ কাটছে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে। অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবু বা আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। ঈদের দিনেও তাদের টেবিলে নেই পর্যাপ্ত মাংস কিংবা পরনে নেই নতুন পোশাক। গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদের ধ্বংসস্তূপের পাশেই খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনিরা।
একই চিত্র দেখা গেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানেও। খার্তুমের যুদ্ধ-ক্ষতিগ্রস্ত আল-সাইয়িদ আব্দুল রহমান আল-মাহদি মসজিদের ভেতরেই সাধারণ মানুষকে ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। এছাড়া নাইজেরিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ও পশু বিক্রির বাজারে অতিরিক্ত চড়া মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য কুরবানি দেওয়া একটি বড় বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপরীতে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছেন মুসলিমরা। জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে লাখো মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার সড়ক, রাশিয়ার মস্কো ক্যাথেড্রাল মসজিদ, পাকিস্তানের লাহোরের ঐতিহাসিক বাদশাহী মসজিদ, ইরাকের নাজাফে ইমাম আলীর মাজার এবং লেবাননের বৈরুতে মোহাম্মদ আল-আমিন মসজিদের বাইরে হাজার হাজার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছেন। নামাজ শেষে মুসলিমরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি করেন এবং দেশ ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটিতে সামর্থ্যবান মুসলিমরা পশু কুরবানি করছেন। কুরবানির এই পশুর মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিশেষ করে সমাজের দুস্থ ও অভাবী মানুষের মাঝে বণ্টন করা হচ্ছে, যা ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা—দয়া, দানশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ।
বিপুল/২৭.০৫.২০২৬/রাত ৯.৩৩
