তার এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের কারণ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। বনি ইসরাঈলরা মুসা (আ.)-এর আগমনের সুসংবাদ আগেই পেয়েছিল যে তাদের বংশে এমন এক যুবকের আবির্ভাব হবে, যাঁর হাতে মিসরের অত্যাচারী বাদশাহর পতন হবে। কারো কারো মতে, এটা এ জন্য যে মিসরের তৎকালীন দুশ্চরিত্র রাজা ইবরাহিম (আ.)-এর স্ত্রী সারাহর সম্ভ্রম নষ্ট করার আকাঙ্ক্ষা করেছিল, কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছিলেন। তবে এ অভিমত কতটুকু সত্য, তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। যা হোক, আহলে কিতাবরা নিজেদের মধ্যে মুসা (আ.)-এর শুভাগমন নিয়ে আলোচনা করত, যা একসময় ফেরাউনের কান পর্যন্ত পৌঁছে। ফলে ফেরাউন রাজ্য হারানোর ভয় থেকে বনি ইসরাঈলের পুত্রসন্তানদের হত্যার নির্দেশ জারি করে।
ডেস্ক নিউজ : মিসরের কুখ্যাত খোদাদ্রোহী বাদশাহ ফেরাউনকে কে না চেনে, তার ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতা সবারই জানা। সে ছিল চরম অত্যাচারী রাজা ও কুখ্যাত খুনি, যার জুলুমের শিকার হয়েছিল ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম খলিলুল্লাহর বংশধররা। অথচ সে যুগে তারাই ছিল পৃথিবীর সর্বোত্তম অধিবাসী। দুশ্চরিত্র ও অত্যাচারী রাজা ফেরাউন তাদের দাসে পরিণত করেছিল। তাদের দিয়ে নিকৃষ্টতম কাজকর্ম করাত। তাদের নিম্নমানের পেশায় নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করত। উপরন্তু তাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করত।
নির্যাতিত, নিপীড়িত, দুর্বল বনি ইসরাঈলদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি দুর্বল করে রাখা লোকদের সেই জমিনের পূর্বের আর পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলাম, যাতে আমি কল্যাণ নিহিত রেখেছি। এভাবে বনি ইসরাঈলের ব্যাপারে তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে তোমার প্রতিপালকের কল্যাণময় অঙ্গীকার পূর্ণ হলো আর ফেরাউন ও তার লোকজনের গৌরবময় কাজ ও সুন্দর প্রাসাদগুলোকে ধ্বংস করে দিলাম।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৩৭) অর্থাৎ আহলে কিতাবরা যে বিষয়ে আলোচনা করত—বনি ইসরাঈলের কোনো এক যুবকের মাধ্যমে মিসরে ফেরাউনের রাজত্বের অবসান ঘটবে, তা বাস্তবায়ন হয়ে গেল।
কারো কারো মতে, এই আয়াতেও অন্য জাতি বলতে বনি ইসরাঈলদের বোঝানো হয়েছে।
তথ্যঋণ : আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া
কিউটিভি/আয়শা/২১ জানুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৪:৫০
