ধান ও ভুট্রার বাম্পার ফলন

Rakhi Majumder | আপডেট: ২০ মে ২০২২ - ০৯:৩৮:৫১ পিএম

মো : আশিকুর ইসলাম,বোচাগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত রানীরঘাটা রাবার ড্যামের কারনে ভাগ্য বদলেছে কয়েক হাজার কৃষকের। রাবার ড্যামের পানির সেচে চলতি মৌসুমে বোরো ধান ও ভুট্রার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা বাজারে ধান ও ভুট্রার দাম বেশি পাওয়ায় কৃষি কাজ করে ভাগ্য বদলেছে তাদের।জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ৫নং ছাতইল ইউনিয়নের পরমেশ^রপুর রানীরঘাট সংলগ্ন টাঙ্গন নদীর উপর ২০০৯ সালে রাবার ড্যামের কাজ শুরু হয়। দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসানের সংসদ সদস্য বর্তমান নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এই রাবার ড্যামটির ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেন। এরপর ২০১২ সালে রারার ড্যামটি উদ্বোধন করা হলে বদলে যায় এই এলাকার কৃষকের ভাগ্য। যেখানে খরা মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারতো না সেখানে রাবার ড্যামে আটকানো পানি দিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে বোচাগঞ্জ উপজেলার ১২টি মৌজা ও পাশর্^বর্তী ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ্ উপজেলার ১০টি মৌজার কয়েক হাজার কৃষক কৃষিকাজ করে উপকৃত হয়েছেন।

বিশেষ করে বোরো ধান, ভুট্রা সহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করতে পারছেন নদী সংলগ্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।টাঙ্গন নদীর রানীর ঘাট রাবার ড্যাম সমবায় সমিতি লিঃ ্্এর সভাপতি নুর সুলতান জানান, এক সময় নদীর সংলগ্ন দুই পারের জমিতে পানির অভাবে তেমন কোন আবাদ হত না। কৃষকরা হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও তেমন ফলন পেত না যার ফলে অর্থনেতিক ভাবে এই এলাকার কৃষকরা পিছিয়ে ছিল। কৃষকের কথা ভেবে বর্তমান সরকারের নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৯ সালে তিনি রানীরঘাট এলাকায় টাঙ্গন নদীর উপর রাবার ড্যাম নির্মান কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে রাবার ড্যামটি চালু হওয়ার পর থেকে ভাগ্য বদলাতে শুরু করে এই এলাকার কৃষকের। সময়মত সেচ ও তদারকির ফলে যে কোন ফসলের ফলন দ্বিগুন হারে বাড়ছে। সমবায় সমিতির মাধ্যমে পরিচালিত এই রাবার ড্যামটির আওতায় ২ হাজার কৃষক রয়েছেন। বোচাগঞ্জ ও পীরগঞ্জ উপজেলার ২২টি মৌজায় ৩৮টি পাম্পের মাধ্যমে নদী থেকে জমিতে পানি সেচ দেওয়া হয়। এজন্য প্রতিটি কৃষককে সমবায় সমিতিতে নির্দিষ্ট হারে এককালিন নামমাত্র টাকা দিতে হয়। সেই টাকা দিয়ে রাবার ড্যামের রক্ষনাবেক্ষন ও কেয়ার টেকারের বেতন দেওয়া হয়।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দীন শেখ জানান, চলতি বোরো ও ভুট্রা মৌসুমে রাবার ড্যামের আওতায় বোচাগঞ্জ্ উপজেলার ১২টি মৌজায় ভুট্রা ৮২০ হেক্টর ও বোরো ধান ৩০৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। বোচাগঞ্জ উপজেলার ৫নং ছাতইল ইউনিয়নের তেতড়া, ওশুরগাঁও, ষাটপুকুর, মাহেরপুর, সুকদেবপুর, নারইল, আনোড়া, কুকুড়াডাঙ্গী, কোদালকাঠি, ৬নং রনগাঁও ইউনিয়নের শ্রিমন্তপুর, সাদামহল, বনগাঁ মৌজার কয়েক হাজার কৃষক রাবার ড্যামের সেচের আওতায় রয়েছেন। এসব এলাকার কৃষকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বেলে মাটির হার বেশি হওয়ায় একসময় তাদের জমিতে সেচের অভাবে ভালো আবাদ করতে পারতো না। কিন্তুু রাবার ড্যামের সুবাদে তারা এখন সহজেই সেচের পানি পাওয়ায় ভালো ভাবে আবাদ করতে পারছেন এবং ফলনও পাচ্ছেন দ্বিগুন। বিশেষ করে এবার বোরো ধান ও ভুট্রার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে অধিকাংশ কৃষক জানালেন।

কিউটিভি/অনিমা/২০.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৯:৩৮

▎সর্বশেষ

ad