আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পাঞ্জাবের সাংরুরে কংগ্রেসের ‘ইনসাফ সমাবেশে’ বক্তব্য দিতে গিয়ে ভগবন্ত মানকে নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, লোকসভায় ভগবন্ত মান তার পাশে বসতেন। সে সময় তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
রাহুলের দাবি, সকাল ১১টার সময়ও ভগবন্ত মানের নিঃশ্বাসে মদের গন্ধ পাওয়া যেত। তবে ভগবন্ত মানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান রাহুল।
তার মতে, কেউ মদ্যপান করবেন কি না, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। কারণ, রাজ্যে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তার।
রাহুল বলেন, যার বিরুদ্ধে দিনের বেলাতেই মদ্যপ থাকার অভিযোগ উঠছে, তার পক্ষে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন। পাঞ্জাবকে মদ ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি মাদকাসক্ত মানুষের যন্ত্রণা বুঝবেন এবং রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
রাহুলের বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নামে আম আদমি পার্টি। দিল্লিতে দলটির সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ উঠলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না।
তার মতে, রাহুলের মতো একজন নেতার কাছ থেকে এমন নিম্নরুচির মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। সৌরভ আরও বলেন, বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ নেই। তাদের মূল লক্ষ্য পাঞ্জাবকে আক্রমণ করা। রাহুলের মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
পাঞ্জাবের সমাবেশ থেকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন রাহুল। মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শাহের দেওয়া সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় তিন বছরের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে আগামী তিন বছর পর অমিত শাহ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকবেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
আয়শা/০৫ নভেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৪:৫০
