আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ব্যবহার কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানি। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে দেশটিতে চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর বিশেষ কর কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো, অন্যদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম চিনিযুক্ত পানীয় তৈরিতে উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য। জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ‘চিনি কর’ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডির হাতে আসা খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানীয়তে চিনির পরিমাণ অন্তত ৫ গ্রাম হলে প্রতি লিটারে ২৬ সেন্ট কর দিতে হবে। আর চিনির পরিমাণ ৮ গ্রাম বা তার বেশি হলে প্রতি লিটারে করের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ সেন্ট। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য তোলার কথা রয়েছে।
মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসপিডি) অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল এ উদ্যোগের পক্ষে রয়েছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর আরোপের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের আয় বাড়বে এবং পানীয় প্রস্তুতকারকেরা চিনির পরিমাণ কমাতে উৎসাহিত হবেন। এতে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পানীয়ের উৎপাদন বাড়তে পারে। সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন এই কর থেকে ২০২৭ সালে প্রায় ৬৯ কোটি ইউরো এবং ২০২৮ সালে ৯২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো রাজস্ব আয় হতে পারে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে শুরু থেকেই মতপার্থক্য ছিল। জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে চ্যান্সেলরের দপ্তর ক্লিংবাইলের আগের প্রস্তাব আটকে দিয়েছিল। কনজারভেটিভ ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের কয়েকজন রাজ্য পর্যায়ের নেতা এই করের বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি, নতুন করের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে এবং বাজারের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ আরও জোরালো হবে।
চিনির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনাও রয়েছে। সংস্থাটির সুপারিশ অনুযায়ী, সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক সর্বোচ্চ ৫০ গ্রাম চিনি গ্রহণ করা উচিত। তবে স্বাস্থ্যগত সুফল বাড়াতে এই পরিমাণ ২৫ গ্রামের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা প্রায় ছয় চা-চামচ চিনির সমান।
কিন্তু জার্মানিতে চিনির দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ এই সুপারিশের চেয়ে অনেক বেশি। দেশটিতে পুরুষেরা গড়ে প্রতিদিন ৭৮ গ্রাম এবং নারীরা ৬১ গ্রাম চিনি গ্রহণ করেন। চিনির অন্যান্য উৎসও হিসাবের মধ্যে আনলে কারও কারও দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ ১০০ গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার। তবে নতুন করের ফলে পানীয়ের দাম কতটা বাড়বে এবং উৎপাদকেরা চিনির পরিমাণ কমাতে কতটা উদ্যোগী হবেন, তা নির্ভর করবে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত বাস্তবায়নের ওপর।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আয়শা/১৪ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:০৫
