ডেস্ক নিউজ : সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ঢাকার আদাবর থানার গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় হাবিবুল আউয়ালকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এবং হাবিবুল আউয়ালের পক্ষে আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
হাবিবুল আউয়ালের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আগে একটি মামলা ছিল এবং ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। জামিননামা জমা দেওয়ার পর তাকে রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। আদালত এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আদাবরের রিংরোড এলাকায় রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালান।
এ ঘটনায় রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলা করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান হাবিবুল আউয়ালকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে আবেদনের শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনসহ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ভোট জালিয়াতি ও সাংবিধানিক লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন সাবেক এই সিইসি। গত বছরের ২৫ জুন মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ২৯ জুন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ভোট প্রভাবিত করতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও রাষ্ট্রদ্রোহের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান এবং কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন।
এ ছাড়া গত ২১ সেপ্টেম্বর বয়স ও শারীরিক জটিলতা বিবেচনায় হাইকোর্ট তাকে পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে জামিন দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করেন। এ বিষয়ে আপিল বিভাগে আগামী ২৬ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
আয়শা/০৪ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৮
