যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

Ayesha Siddika | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:১৪:২৮ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিউল বলছে, আলাস্কায় তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পের জন্য ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। 

স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয় ওভাল অফিস থেকে এ বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়। সেই বৃহত্তর কৌশলগত বিনিয়োগ প্যাকেজের আওতায় জাহাজ নির্মাণ খাতে ১৫০ বিলিয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সিউল।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করেছে, তার আওতায় তারা ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।’তিনি জানান, এই বিনিয়োগের আওতায় আটটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এবং টেক্সাসে ৬-গিগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের করা অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ এটি। মূলত ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মাঝে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ও আইনি শর্ত পূরণ হলেই কেবল পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সিউল ট্রাম্পের ঘোষণার অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেক্সাসের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং আটটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

ঝুলে থাকা প্রকল্প

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলাস্কা এলএনজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যকারিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি যাচাই করতে তারা পর্যালোচনা শুরু করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিনিয়োগ করা হবে কি না কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক্স বার্তায় লিখেছেন, এলএনজি প্রকল্প এবং পারমাণবিক চুল্লি—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ শুরুর আগে সেগুলোর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

সিউলের বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।

আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এর আওতায় একটি ৮০৭ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইনটি ‘নর্থ স্লোপ’ থেকে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি তরলীকরণ কেন্দ্রে  প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করবে। এতে এশিয়ার বাজারে এই জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হবে। 

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৯০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টন এলএনজি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ট্রাম্প বারবার এই প্রকল্পটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ব্যয়, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

 

আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:১২

▎সর্বশেষ

ad