ইসরাইলের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা

Ayesha Siddika | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:১২:৫৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদের জন্য সরাসরি সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র হলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এড়িয়ে গেছেন তিনি। খবর আল আরাবিয়ার। 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর আরেকটি মেয়াদ পাওয়া উচিত কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন আর রাজনীতিতে জড়িত নই। শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমরা জনপ্রিয়।’

একই প্রশ্ন পুনরায় করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমার প্রধান বিষয় হলো—আমি ইসরাইলকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে চাই।’ এরপর তিনি সরাসরি সমর্থনের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতে নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইসরাইলি জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ‘৯৯ শতাংশ’।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কাজ করা আরও সহজ হবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, আইজেনকোট সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকবারই মানুষ নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ বলে ধরে নিয়েছে, যেমনটা আমাকে নিয়েও করেছে। আমি নেতানিয়াহুকে খাটো করে দেখব না।’সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, পাশাপাশি লেবানন ও গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নেতানিয়াহু আগাম গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলেন—এমন প্রতিবেদনের বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। যদি তিনি আগে থেকে জানতেন, তাহলে অবশ্যই কিছু করতেন।’   

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মন্তব্য

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে চার থেকে আট সপ্তাহের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা থাকলেও ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো আরও ব্যাপকভাবে ধ্বংস করতে অভিযান সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমি চাইলে তখনই থামতে পারতাম। কিন্তু আমার মনে হয়েছে সেটা উপযুক্ত হতো না।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কিছু সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র ওই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, প্রস্তাবের শর্তগুলো ‘যথেষ্ট ভালো ছিল না’।

আগামী মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরও জোরদার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, ‘সম্ভব।’ তবে পরে নিজের অবস্থান বদলে বলেন, ‘আমি আপনাকে সেটা বলতে পারি না।’

 

 

আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:১২

▎সর্বশেষ

ad